দিন দর্পণ, ২ জানুয়ারি- আইপিএলের নিলাম যখন শুরু হল, তখন কিছু কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন সুমিত কুমার। আইপিএল নিলাম তাঁকে কোটিপতি বানিয়ে দেয়। ২০ লাখ থেকে তাঁর দর ওঠে ১ কোটি টাকা। আনন্দে চোখে জল এসে যায় সুমিতের মায়ের। পাড়া প্রতিবেশীরা ভিড় জমান সুমিতের বাড়িতে।
মিডিয়াও এসে উপস্থিত হয় সুমিতের বাড়ির সামনে। দিল্লি ক্যাপিটালস সুমিতের ছবি সোশাল মিডিয়ায় দিয়ে অভিনন্দন জানায় ঝাড়খণ্ডের ক্রিকেটারকে। কিছুক্ষণ পরেই সব বদলে যায়। আনন্দ-হাসির পরিবর্তে সুমিত কুমারের মায়ের চোখ দিয়ে নেমে আসে জলের ধারা। নিমেষের মধ্যে আনন্দ বদলে যায় বিষাদে।
ঝাড়খণ্ডে সুযোগ সুবিধা কম থাকায় নাগাল্যান্ডে চলে যান সুমিত। সেই সুমিতই কিছুক্ষণ পরে দেখেন দিল্লি ক্যাপিটালস যে সুমিতকে দলে নিয়েছে, সেই সুমিত আসলে হরিয়ানার।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্মিত সুমিত কুমার বলেন, ‘আমার মা অত্যন্ত খুশি হয়েছিল। আমার জন্য ক্রমাগত প্রার্থনা করছিল মা। কিন্তু এটা হল কী করে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না? আমি মানছি আমাদের নাম হয়তো এক। কিন্ত টিভিতে যার ছবি ভেসে উঠল, সেটার ব্যাপারে কী বলব? আমারই নাম ছিল, আমারই ছবি ছিল।’ হিসেব মেলাতে পারছেন না ঝাড়খণ্ডের সুমিত কুমার।
দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরে গেলেন হরিয়ানার সুমিত কুমার। ঝাড়খণ্ডের সুমিত কুমারের কাছে ব্যাপারটাই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বলছেন, ‘ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে আমার ছবি দিল ওরা। ওরা আমাকে সার্চ করল, ট্যাগও করা হল আমাকে। আমি যখন নোটিফিকেশন পেলাম, তখন একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমি। ঘণ্টা দুয়েক পরে আমার ছবি ডিলিট করে দেয় ওরা। আমি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি এবং অত্যন্ত মর্মাহত হই।’
সুমিতের পরিবারের জন্যও ছিল তা বড় সড় ধাক্কা। দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে দলে নিয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন অভিনন্দন জানান সুমিতকে। কিছুক্ষণ পরে আসল ঘটনা জানার পরে তাঁর পরিবারই বিব্রত বোধ করে। পরিবারের মানসিক অবস্থাটা এখন ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না সুমিত কুমার।
