অতীতের রেকর্ড ভাঙবে, আশা শিল্প নিগমের
জামিল খান, দিন দর্পণ
৭৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যে শুরু হল দু’দিনের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। তবে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম আশা করছে, দু’দিনের এই সম্মেলন শেষে লগ্নির পরিমাণ আরও বাড়বে। এবারের সম্মেলনে গতবারের থেকে বেশি অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাব আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যে ২৬টি প্রস্তাব এসেছে। তাতে ৭৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।
কারণ প্রথম দিনেই বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ল বাংলা। রিলায়েন্স গোষ্ঠী একাই তিন বছরে ২০ হাজার কোটি বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন অন্য শিল্পপতিরা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, নারায়ণা গ্রুপের কর্ণধার তথা চিকিৎসক দেবীপ্রসাদ শেট্টি। তিনি আগামী দু’বছরের মধ্যে কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। যেখানে হৃদ্রোগ, ক্যানসারের চিকিৎসার পাশাপাশি অঙ্গ প্রতিস্থাপনও হবে। জেকে গ্রুপের কর্তা হর্ষপতি সিঙ্ঘানিয়া খড়্গপুরের বিদ্যাসাগর শিল্পতালুকে দুগ্ধ শিল্পে বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই প্রকল্পে সরাসরি দু’হাজার জনের কর্মসংস্থান হবে।’
এদিকে রাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহী রাশিয়াও! সূত্রের খবর, বাংলায় ৮ ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। সম্মেলনের শুরু থেকেই আলিপভের নেতৃত্বে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি নজর কেড়েছে শিল্প মহলের। উল্লেখ্য, শোনা যাচ্ছে রাজ্যে বিনিয়োগে উদ্যোগী রাশিয়া। বাংলায় ৮টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। ৮টি ক্ষেত্র হল, খনি, বিদ্যুৎ, ভারী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন, স্টার্ট আপ ও ফিনটেক। ঢেউচা -পাঁচামি ছাড়াও বাংলায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে প্রস্তাব দিতে পারে রুশ প্রতিনিধি দল। একটি ১০০০ মেগা ওয়াটের তাপবিদ্যুৎ এবং ৪টি ৫০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব রয়েছে তাঁদের।
বাংলায় আরও বিনিয়োগের কথা বলেছেন উইপ্রো কর্তাও। তাঁর কথায়, ‘রাজারহাটের জমিতে উইপ্রো যে ক্যাম্পাস তৈরি করবে, তা হবে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়। আমরা বাংলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের রাস্তায় যেতে চাই।’ এ ছাড়াও সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, আইটিসি চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী, বেঙ্গল অম্বুজা গ্রুপের কর্ণধার হর্ষ নেওটিয়া-সহ অন্য শিল্পপতিরা তাঁদের বক্তব্যে বাংলার শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
মঞ্চে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ছিলেন দেশ বিদেশের আরও অনেক শিল্পপতি।
সূত্রের খবর, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আসতে পারেন হীরানন্দানি গ্রুপের কর্ণধার নিরঞ্জন হীরানন্দানি। আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি এবং তাঁর পুত্র কর্ণ। আদানি গোষ্ঠী তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বীরভূমের দেউচা পাঁচামির খনি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। মোট ২৮টি দেশের আড়াইশো প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন। সবচেয়ে বড় দল এসেছে ব্রিটেন থেকে।
এবারের সম্মেলনের ফোকাস ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রাখা হয়েছে উৎপাদন শিল্প, পরিকাঠানো, কৃষি ও কৃষিজ পণ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট। সম্মেলনে পর্যটনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার পর্যটনকে শিল্পের মর্যাদা দিয়েছে।
গত বছরের সম্মেলনে ১৩৭টি আগ্রহপত্র ও সমঝোতা পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ৩.৪২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল। সেগুলিতে ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল রাজ্য সরকার। এই সব শিল্প প্রস্তাব বাস্তবায়নে এক বছর সময় সমুদ্রের এক বিন্দু জলও নয়। ফলে কত শিল্প প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়েছে সে প্রশ্ন এখনই প্রাসঙ্গিক নয়।
বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গনে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিল্প নিগম। সেখানে রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা, পরিকাঠামোর সুবিধা এবং ইতিমধ্যে ঘোষিত শিল্প প্রকল্পগুলি তুলে ধরা হয়।
বাংলার মাটি, বাংলার গান দিয়ে এদিন সূচনা হয় বিশ্ববাণিজ্য সম্মেলনের। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং বাবুল সুপ্রিয় একসঙ্গে গান গাইলেন। তাঁদের সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
