দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ বিধানসভায় বিল পাশ হয়ে গেলেও আটকে থাকছে রাজভবনে গিয়ে। পাশ হওয়া বিলে সাক্ষরই করছেন না রাজ্যপাল। এই অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। রাজ্যপালদের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই এবার কড়া ধমক দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের তরফে পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয় বিল সাক্ষরে গড়মসি করা নিয়ে। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চের তরফে দুই রাজ্যের রাজ্যপালকেই অবিলম্বে বিলে সই করতে বলা হয়।
এ দিন শীর্ষ আদালতের তরফে তামিলনাড়ু ও পঞ্জাবের রাজ্যপালকে ধমক দিয়ে বলা হয়, নির্বাচিত বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে সই করতে দয়া করে দেরি করবেন না। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ধমকের সুরে বলেন, আগুন নিয়ে খেলছেন আপনারা। কী করে রাজ্যপাল এই কথা বলতে পারেন? পঞ্জাবে যা হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা মোটেই খুশি নই। সংসদীয় গণতন্ত্র এভাবে চলতে পারে? ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের তরফে বলা হয়, গণতন্ত্রের নিয়ম রয়েছে। তা মেনে চলতে হবে আপনাদের।
পঞ্জাবে আপ সরকার রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিতের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আপ সরকারের অভিযোগ, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলগুলিতে সই করছেন না রাজ্যপাল। তাঁর এই ধরনের অসাংবিধানিক আচরণের ফলে গোটা প্রশাসনের কাজই আটকে যাচ্ছে। পঞ্জাব সরকারের তরফে সওয়াল করছিলেন অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, শিক্ষা ও অর্থ সংক্রান্ত বিল সহ মোট সাতটি বিল আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল। গত জুলাই মাসে এই বিল পাঠানো হয়েছিল কিন্তু তিনি এখনও স্বাক্ষর করেননি। রাজ্যপালের নিষ্ক্রিয়তা প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলেছে।
এরপরই শীর্ষ আদালতের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে নির্দেশ দেওয়া হয় পঞ্জাবের রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিত বিধানসভায় পাশ হওয়া কতগুলি বিলে সই করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড করতে।
প্রসঙ্গত, পঞ্জাবের আম আদমি পার্টির সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রাজ্যপালের। অন্যদিকে, তামিলনাড়ু সরকারের তরফেও সুপ্রিম কোর্টে বিলে সাক্ষর না করা নিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। ডিএমকে সরকার ও রাজ্যপাল রবির মধ্যেও বিগত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছে। রাজ্যপাল আর এস রবির সঙ্গে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনের সংঘাত তীব্র হয়েছে। রাজ্যপাল একাধিক বিলে সই না করায় প্রতিবাদ জানিয়ে গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে চেন্নাইয়ের রাজভবনে আয়োজিত চা চক্রের অনুষ্ঠান বয়কট করেছিলেন স্ট্যালিন এবং তাঁর মন্ত্রীরা।
প্রশ্ন হচ্ছে, পঞ্জাবের রাজ্যপালকে সুপ্রিম তিরস্কারের প্রভাব কি এরাজ্যের রাজনীতিতেও পড়বে? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া ২২টি বিল রাজভবনে আটকে। রাজ্য মনে করছে, চাপের মুখে পড়ে রাজ্যপাল এবার বিলগুলি ছেড়েও দিতে পারেন। আটকে থাকা বিলগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হাওড়া ও বালি পুরসভাকে একত্রিত করার ২ বিল, মুখ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা সংক্রান্ত আটটি বিল। এছাড়াও আটকে রয়েছে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত সার্চ কমিটি নিয়ে বিল। রাজ্যপালও অবশ্য দ্রুততার সঙ্গে বিলগুলি ছেড়ে দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন।
