ঈদে ছুটি একদিনই, হতাশ মুসলিমরা


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ ২০২৪ সালের জন্য রাজ্য সরকার যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে হতাশ মুসলিম সমাজ। কারণ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা’র জন্য মাত্র একদিন করে ছুটি দেওয়া হয়েছে। নবান্ন ছুটির যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে সেটাই দেখা যাচ্ছে। অথচ গত বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দু’দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও গত বছর ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছিল শনিবার। তাই স্বাভাবিকভাবে রবিবার ছুটি। কিন্তু সেবার দু’দিন ছুটির কথা বলা হয়েছিল। মুসলিমরা ধরেই নিয়েছিলেন ঈদুল ফিতরে রাজ্য সরকার এবার থেকে হয়তো দুদিন ছুটি ঘোষণা করবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব হল ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। তবে চান্দ্রমাস অনুসারে এই উৎসব পালিত হয় বলে কখনও কখনও আগে পিছু দিনটি পড়ে। সেই কারণে সরকারের কাছে মুসলিম সম্প্রদায়ের তরফ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে অন্তত দু’দিন করে ছুটি ঘোষণা করতে। কিন্তু এবার নবান্ন যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে মাত্র একদিন ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণায় হতাশ মুসলিম সমাজ।

অথচ দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে।  দশমীর পরের দুই দিনও বেশি ছুটি দেওয়া হয়েছে। কালীপুজোর পরের দিন ও ভাইফোঁটার পরের দিনও ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছট পুজোর জন্য দু’দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে।

আগামী বছর দুর্গা পুজোর সময় টানা ১৬ দিন ছুটি থাকবে। কারণ পুজোর ফাঁকে ফাঁকে ৫টা রবিবার পড়েছে। তাতেও হতাশ সরকারি কর্মীরা। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অথবা এনআই অ্যাক্ট অনুযায়ী নতুন বছরের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে নবান্ন। অর্থ দফতরের প্রকাশিত ছুটির তালিকাই হতাশ করেছে রাজ্যের সরকারি কর্মীদেরও।

নবান্ন যে ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে আগামী বছর দুর্গাপুজোয় কম ছুটি পাবেন কর্মীরা। কারণ অষ্টমী আর নবমী একই দিনে পড়েছে। আর মহালয়া আর গান্ধি জয়ন্তীও পড়েছে এক দিনে। অর্থাৎ দুটি সরকারি ছুটি মার যাচ্ছে আগামী বছর। এখানেই শেষ নয়। আগামী বছর পাঁচটি ছুটি পড়েছে রবিবার দিনে। তবে সরস্বতী পুজোর আগের দিন আর দোলযাত্রার পরের দিন ছুটি রয়েছে।

এনআই অ্যাক্টের ২৫ ধারা অনুযায়ী ছুটি হবে রাজ্যের সরকারের অধীনে থাকা সমস্ত দফতরের কর্মীদের। তবে এই তালিকায় নাম নেই কলকাতায় কালেক্টরের দফতর ও রেজিস্ট্রারের দফতরে।

নতুন তালিকা অনুযায়ী জানুয়ারিতে তিন দিন ছুটি থাকবে। সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে ছুটি ১৪ ফেব্রুয়ারি। মার্চে দোল আর গুডফ্রাইডের ছুটি থাকবে ২৫ আর ২৯ মার্চ। এপ্রিলে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে একটাই ছুটি ১১ এপ্রিল। মে মাসে মে দিবস, রবীন্দ্রজয়ন্তী আর বুদ্ধপূর্ণিমার ছুটি থাকছে। ১৭ জুন ঈদুল আযহার ছুটি। ১৭ জুলাই মহরমের ছুটি। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকছে। ১৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো আর ৩১ অক্টোবর কালীপুজো। ১৫ নভেম্বর গুরু নানকের জন্মদিবস উপলক্ষে ছুটি। ওই দিনই রয়েছে বিরসা মুণ্ডার জন্মদিন। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি।

বাড়তি ছুটি হিসেবে থাকছে পয়লা জানুয়ারি, ১৩ ফেব্রুয়ারি। ৮ মার্চ শিবরাত্রীর ছুটি। দোলযাত্রার পরের দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের। তবে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত অতিরিক্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দশমীর পরের দুই দিনও বেশি ছুটি দেওয়া হয়েছে। কালীপুজোর পরের দিন ও ভাইফোঁটার পরের দিনও ছুটি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের। ছট পুজোর জন্য ৮ ও ৯ নভেম্বর ছুটি থাকবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *