মেহেবুব গাজী, দিন দর্পণ
যতদিন আছি, ডায়মন্ড হারবারে ধর্মীয় বিভাজন হতে দেব না। টাকার বিনিময়ে সেটিং করা জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে রাম, বাম সব এক হয়েছে। যতদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ থাকবো এখানে ধর্মীয় বিভাজন হতে দেব না। শুক্রবার ফলতায় বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে নওশাদ সিদ্দিকীকে নিশানা করেন তিনি।
শুক্রবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমার গতকাল এখানে কর্মসূচি করার কথা ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন, হঠাৎ করে আমাকে আবার নোটিস পাঠিয়ে ইডি দফতরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। সেই কারণে ইচ্ছা বা মন না থাকলেও আপনাদের সভা একদিন পিছিয়ে দিয়ে আমাকে এজেন্সির দফতরে যেতে হয়েছিল। প্রায় ৬ হাজার পাতার নথি ইডি দফতরে জমা দিয়েছি।
বিজেপি তাঁর কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই না করতে পেরে, বিজেপি নানাভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখতে চাইছে। কিন্তু আমরা মাথা নত করব না। যেদিন যেদিন আমার কর্মসূচি ছিল, সেদিন সেদিন সেই কর্মসূচিকে কীভাবে বাধাপ্রাপ্ত বা বিঘ্নিত করা যায়, তার একটা প্রচেষ্টা এরা মরিয়াভাবে চালিয়ে গিয়েছে’। তিনি বলেন, গরু পাচার, কয়লা কেলেঙ্কারিতে কিছু করতে না পেরে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ডাকছে। শুধু আমাকে নয়, আমার মা-বাবা-স্ত্রী সবাইকে ডেকে পাঠাচ্ছে। কিন্তু এভাবে ধমকে চমকে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’
অভিষেক ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধির কাজ দাঙ্গা লাগানো নয়। টাকা নিয়ে সেটিং করা নয়। জীবন বিপন্ন করে মানুষের পাশে থাকা। যতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছে এখানে ধর্মের নামে বিভাজন হতে দেব না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বুনতে দেব না’।
লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করেছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তাঁকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস। নওশাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুর নরম বিজেপিরও। যার ফলে আসন্ন নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে অভিষেককে কড়া প্রতিদ্বন্দিতার মুখে পড়তে চলেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। নওশাদের বিরুদ্ধে নাম না করে মেরুকরণ, ধর্মীয় বিভাজন ও টাকা নিয়ে সেটিং করার অভিযোগ তুললেন অভিষেক?
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে নাম না করে একদিকে ‘পরিবারবাদ’ নিয়েই নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কিন্তু ব্যুমেরাং হয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তলবের মুখে বারবার ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পরিবারকে আসতে দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের গ্রেফতার হওয়া একাধিক হেভিওয়েটের তালিকায় রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মন্ডল থেকে শুরু করে সদ্য গ্রেফতার হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও রয়েছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে রয়েছেন তাঁদের সন্তানরা।
পাশাপাশি আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে বারবার ফিরে এসেছে ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পরিবার। এদিন ফের এনিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একদিকে যখন কুণাল ঘোষ ‘অধিকারী’ পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। আর এবার পাল্টা প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগে ফের মোদি সরকারকে নিশানা করলেন অভিষেক।
তৃণমূলের সংযোজন, যেদিন যেদিন আমার ঘোষিত কর্মসূচি থাকে, সেদিনই আমাকে ডাকা হয়। ইডি দফতরে ৬ হাজার পাতার নথি দিয়েছি। ইডি দেখুক, আমি আমার অবস্থান পাল্টাই না। ৩৬ মাস পর আবারও বলছি, তখন কয়লা কাণ্ডে কিছু করতে পারেনি। তাই আবার নিয়োগ কেসে আমার ও আমার পরিবারকে ডাকা হচ্ছে। বিজেপির তাবড় তাবড় নেতারা ২০১৯ সালে এই ডায়মন্ড হারবারে দিনের পর দিন বসেছিল। প্রধানমন্ত্রী সভা করে গিয়েছেন। তবুও রেকর্ড ভোটে জিতেছি। রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘আমি বহিরাগতদের কাছে মাথা নত করব না, মানুষের কাছে মাথা নত করব। ২০১৪ সালে ৭১ হাজার ভোটে জিতেছিলাম, ২০১৯ সালে ২ লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিলাম, নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল ওরা, মাতৃশক্তি যাঁর সঙ্গে থাকে, তাকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।’
