INDIA-MALDIVES ROW- মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতকে জরুরী তলব ভারতের


বাবন ধুঁয়া, ০৮.০১.২৪ সময়ঃ ৬.১৮

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতীয়দের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য মালদ্বীপের মন্ত্রীদের। প্রতিবাদে ফুঁসছে নেটপাড়া। কোনও ভাবেই ভারতীয়দের অপমান বরদাস্ত নয়। প্রতিবাদে বহু পর্যটক ইতিমধ্যেই মালদ্বীপ যাত্রা বাতিল করেছেন। এখনও পর্যন্ত মালদ্বীপের ১০ হাজার ৫০০ হোটেল বুকিং ও ৫ হাজার ৫২০টি ফ্লাইটের টিকিট বাতিল করেছে ভারতীয়রা।

এ বার দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর আরও চাপ বাড়িয়ে মলদ্বীপের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব করল ভারত। সোমবার সকালেই মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম সাহিবকে ডেকে পাঠানো হয়। সমাজমাধ্যমের একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যায়, সোমবার ভোরে দিল্লির সাউথ ব্লকে বিদেশ মন্ত্রকের দফতরে ঢুকছেন মালদ্বীপের ওই কূটনীতিক। কিছু সময় পরে তাঁকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতেও দেখা যায়। যদিও দিন দর্পণ এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি। বিতর্কের আবহে পালটা ভারতের রাষ্ট্রদূতকেও তলব করে মালদ্বীপ সরকার। প্রশ্ন উঠছে, চিনের উসকানিতেই কী ভারত বিরোধী এমন আস্ফালন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রের?

মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ সোলি ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে নীতি নিয়ে চলছে সেই ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোট ময়দানে নেমেছিলেন বর্তমান মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট চিনপন্থী হিসেবে পরিচিত মুইজু। তাঁর নীতি ‘ইন্ডিয়া আউট’। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, মুইজুর এই নীতির নেপথ্যে কাজ করছে চিনের উস্কানি।

ভারত ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে ভারতীয়দের রোষের মুখে পড়েছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সরকার। এমনকী বলিউড এবং ক্রিকেট মহলের তাবড় তারকারা মালদ্বীপকে বয়কট করার ডাকও দিয়েছেন। মালদ্বীপ না গিয়ে ভারতীয় দ্বীপগুলি ঘুরে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। দেশের অন্যতম বড় অনলাইন ট্রাভেল কোম্পানি ইজমাই ট্রিপও বয়কট অভিযানে যোগ দিয়েছে। মালদ্বীপ যাওয়ার সব বিমানের বুকিং বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সংস্থার তরফে। দেশের প্রতি আনুগত্য ও সহানুভূতি থেকেই এহেন সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে সংস্থার মালিকের তরফে।

প্রসঙ্গত গত কয়েক দিন আগে লাক্ষাদ্বীপ সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে। কিছু ছবি পোস্ট করেন। মালদ্বীপকে উদ্দেশ্য করে তিনি কোনও কিছুই বলেননি। শুধুই সকলকে ভারতের বুকে থাকা লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের আহ্বান জানান। বিষয়টিতে হঠাৎ জলঘোলা করে মালদ্বীপ। মালদ্বীপ সরকারের তিন মন্ত্রী মারিয়ম সিউনা, মালশা ও হাসান জিহান নজিরবিহীন ভাবে আক্রামণ করেন ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ত¥ারা এমন ভাষা প্রয়োগ করেন যাতে বিতর্ক তৈরি হয়। ভারতের নেটিজেনরা ফুঁসে ওঠেন। ঘটনার রেশ ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের মধ্যে। মালদ্বীপের একের পর এক হোটেল ও বিমানের টিকিট বাতিল হতে শুরু করে। প্রতি বছরই ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মালদ্বীপে বেড়াতে যান। মালদ্বীপের তিন মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পরই হাজার হাজার হোটেল বুকিং ও ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। চাপে পড়েছে সেদেশের সরকার। সাসপেন্ড করা হয়েছে তিন মন্ত্রীকে। মালদ্বীপ সরকার জানিয়েছে, মতামত ব্যক্তিগত, এটা কখনই সরকারের মতামত নয়। তবে এতে এখনই চিঁড়ে ভিজছে না তা কার্যত স্পষ্ট। এখন বিষয়টি কোন দিকে গড়ায় নজর থাকবে সেদিকেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *