মইদুল ইসলাম, দিন দর্পণ: ‘মৃত’ ব্যক্তি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য! যদিও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। ওই নাম থাকার কারণে তাঁর মেয়ের নাম ২০২৫-এর খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু কোনও কারণে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ‘ডিলিটেড’ অর্থাৎ মৃত বলে দেখানো হয়েছে।
এখন স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) আবহে বিপাকে পড়েছেন পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক ৫৫ বছরের প্রৌঢ় বাবুরাম কর্মকার। জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে বাবুরামের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এখন ভাইয়ের বদলে দাদা বাবুরামকে মৃত বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ দিকে মৃত ভাইয়ের নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে বলে দাবি তার।
মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেওয়া-১ পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বাবুরাম বলেন, ‘আমি দিল্লিতে রাজমিস্ত্রির কাজ করি। কখন আমার নাম বাদ পড়েছে জানতে পারিনি। এর পরে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বার বার করে ঘুরেও নাম ওঠেনি।’ ফলে ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে তিনি এনিউমারেশন ফর্মও পাননি। বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয় বিএলও ও গ্রামের মেম্বারদের জানিয়েও কোনও সুপরামর্শ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তিনি জানান, তিনি ২০১৪ সালে শেষ বারের মতো ভোট দিয়েছেন। এর পরে আর কোনও ভোট দেননি। এখন সার আবহে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম তোলা নিয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এখন তাঁর নাম ভোটার তালিকায় তোলার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে।
তাঁর অভিযোগ, ‘ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচ নম্বর বুথের বিএলও-র কাছে গিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। এর আগে বিডিও অফিসের কোনও কর্মী এ ব্যাপারে আমাকে কোনও সাহায্য করেনি।’ যদিও জেলা প্রশাসন এনিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
‘মৃত’ প্রৌঢ় হন্যে হয়ে ঘুরছেন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে
