দিন দর্পণ, নতুন বছরের শুরুতেই সোমালিয়া উপকূলে ফের পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল। জাহাজটিতে ১০ জন ভারতীয় ত্রু বা নাবিক আছেন বলে জানা গিয়েছে। ছিনতাই হওয়া লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধের সময় লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি লিলা নররফোক’ ছিনতাইয়ে ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় নৌবাহিনীর জওয়ানরা। জাহাজে ১০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন বলে বাহিনীর তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে।
একটি সংবাদসংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া জাহাজটির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস চেন্নাই। এরই পাশাপাশি যোগাযোগ চেষ্টা করা হচ্ছে জাহাজের কর্মীদের সঙ্গেও। সংবাদসংস্থাটি আরও জানিয়েছে, লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজটি ব্রাজিলের পোর্টো ডু আকু থেকে বাহারিনের খলিফা বিন সুলেমান বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।১১ জানুয়ারি সেখানে পৌঁছানোর কথা। তবে, জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদে রয়েছেন বলে সংবাদসংস্থাটি দাবি করেছে।
সোমালিয়া উপকূলে জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়েও একটি পণ্যবাহী জাহাজকে অপহরণ করা হয়েছিল। সোমালিয়ার জলদস্যুরাই এই জাহাজ ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ের খবর পেয়েছে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল এডেন উপসাগরে মোতায়েন ভারতীয় নৌসেনার একটি যুদ্ধজাহাজ।
এরই পাশাপাশি টহলদারি চালিয়েছিল নৌসেনার একটি যুদ্ধ বিমানও। এমভি রুয়েন নামে পণ্যবাহী জাহাজটিতে ১৮ জন নাবিক ছিলেন। নজরদারি চালিয়ে পরে জাহাজটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। একটা সময় সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের বেশ রমরমা ছিল। জাহাজ আটক করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করত জলদস্যুরা। পরে এই ধরনের ঘটনা কমলেও, সম্প্রতি কয়েক মাসে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বর মাসে লোহিত সাগরে ভারতে আসার পথে ছিনতাই করা হয়েছিল একটি পণ্যবাহী জাহাজকে। ঘটনায় ইয়েমেন মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন হুথির হাত রয়েছে বলে সেই সময় দাবি করেছিল ইজরাইল। তেল আভিবের সঙ্গে সংঘর্ষে, হামাসের পক্ষে রয়েছে ইরান ও ইয়ামেন। তার জেরেই জাহাজটিকে ছিনতাই করা হয়েছিল বলে অনুমান।
