শুভাশিস বিশ্বাস, দিন দর্পণ: ভরা বর্ষা। ইলিশের মরশুম। কলকাতাতে ইলিশের দেখা মিলছে না তা নয়। তবে দাম মাটনেরও দ্বিগুণ। এদিকে এই ইলিশ আসার সবথেকে বড় যে উৎস, সেই বাংলাদেশেও দেখা নেই ইলিশের। বাংলাদেশের, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই ইলিশ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন দূষণের কারণে ভরা মরশুমেও নদীতে যে সংখ্যায় ইলিশ মেলার কথা, তার ধারে কাছেও দেখা মিলছে না। সঙ্গে এও জানান, ২০২৫-এর মরশুমে অন্যান্যবারের তুলনায় ৩৮ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ইলিশ মিলেছে। এর পেছনে তিনি অবশ্য দায়ী করছেন নদীর নাব্যতা কমা থেকে আবহাওয়া পরিবর্তনের মতো বেশ কয়েকটি কারণকেই। দিকে আবহাওবিদ থেকে মৎস্য বিশেষজ্ঞরাও জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরে বৃষ্টির ধরন পাল্টে গেছে। এবং ঘন ঘন নিম্নচাপের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই কারণেই এবার ইলিশের হাহাকার বাংলাদেশে।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশে ইলিশ এই ভরা মরশুমেও ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে ইলিশের বড় বাজার বলতে ধরা হয় কক্সবাজারকে। সেখানে বাঁকখালি নদীর মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, দিন দিন ইলিশের সংখ্যা কমছে। ২০২২,২৩ অর্থবর্ষে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৫ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৩,২৪ অর্থবর্ষে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে২ হাজার ৫৫৬ মেট্রিক টনে। আর ২০২৪,২৫ অর্থবর্ষে যে ভাবে হ্রাস পেয়েছে ইলিশ বিক্রির সংখ্যা তা কপালে ভাঁজ ফেলেছে মৎস্য ব্যবসায়ী থেকে আমজনতার। হিসেব বলছে, এই সময় মাত্র ১ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আর চলতি ২০২৫,২৬ অর্থবর্ষে জুলাই আর আগস্ট এই দুই মাসে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬৭ মেট্রিক টন।
এদিকে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। উৎসব মুখর দিনে বাঙালির হেঁশেলে ইলিশ মাছ থাকবে না তা হয় না। এদিকে বঙ্গবাসী ইলিশ বলতে বোঝে পদ্মার সুস্বাদু রুপোলি ইলিশকেই। গত কয়েক বছরেও ঠিক পুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে বাঙালির পাতে পড়েছে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ। এদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম পর্যন্ত বাংলাদেশের ইলিশের দেখা নেই পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশের ইলিশ না আসায় কলকাতার বাজারে মিলছে গুজরাতের ইলিশ। সেখানে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে। গুজরাত থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন ইলিশ ভর্তি বিশেষ ট্রাক ঢুকছে হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজারে। গুজরাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছেন হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের ইলিশের অভাবে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা এখন গুজরাতের ইলিশ দিয়েই তাদের রসনা তৃপ্তি করছেন। যদিও এই ইলিশের স্বাদ বাংলাদেশের ইলিশের ধারে কাছেও আসে না বলেই জানাচ্ছেন বাংলার মৎস্যপ্রেমীরা।
এ ব্যাপারে আশার আলো দেখাচ্ছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ দূতাবাস। বাংলাদেশের উপ দূতাবাস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছে, দুর্গাপুজোর আগেই ভারতে আসছে তিন হাজার মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ। উপ দূতাবাস সূত্রে আরও জানা গেছে যে, বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের পক্ষ থেকে ইলিশ পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতিও মিলেছে। এই ইলিশ কলকাতা সংলগ্ন পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ঢুকবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। অর্থাৎ পুজোর ঠিক আগেই বাংলাদেশের উপহার হিসেবে কলকাতার বাজারে মিলবে পদ্মার ইলিশ। আর এই খবরেই মুখে হাসি বাঙালির।
পুজোর আগে কলকাতার বাজারে আসবে পদ্মার ইলিশ
