দিন দর্পণ, 25 জুলাইঃ গত পাঁচ বছরে ভারত ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন প্রায় ৯ লক্ষ বৈধ নাগরিক। না, এটা বিরোধীদের কথা নয়। কেন্দ্রের তরফেই এই পরিসংখ্যান আনা হয়েছে। যে ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতি। কেন্দ্রে গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে গেরুয়া শিবির বারবার প্রধানমন্ত্রীর সুশাসনের দাবি সামনে রেখে তা ফলাও করে প্রচারে এনেছে। এছাড়া একদিকে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্র। অন্যদিকে এনআরসি চালু করে ভারতে বসবাসকারীদের একাংশের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও কেন্দ্রের রয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সবার অলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদি সরকারের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে দেশ ছেড়েছেন ২ লক্ষ ৬ হাজার মানুষ। এছাড়া ২০২০ সালে ৮৫,২৫৬, ২০২১ সালে ১,৬৩,৩৭৯, ২০২২ সালে ২,২৫,৬২০ এবং ২০২৩ সালে ২,১৬,২১৯ জন দেশ ছেড়েছেন। এভাবেই বিগত কয়েক বছরে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে ভারতীয়দের মধ্যে। রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নরেন্দ্র মোদি সরকার এই তথ্য দিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণত নাগরিকরা দেশ ছাড়েন বিদেশে ভাল চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেলে। ভারতের থেকে বিভিন্ন দেশে ভাল সুযোগ সুবিধার আশায় দেশ ছাড়ার ঘটনা ঘটে। দেশের মেধাবীরা অন্য দেশে পাড়ি দেন, যাকে বলা হয় ‘ব্রেন ড্রেন’। যে বিষয়টি ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য যথেষ্ট সমস্যা ও উদ্বেগের। ঘটনা হল কেন্দ্র বারবার দাবি করেছে তাদের আমলে ভারতীয় নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান নাকি বেড়েছে। কর্মসংস্থানের সংখ্যা বেড়েছে দেশে। সার্বিকভাবে দেশের মানোন্নয়ন ঘটেছে বলে কেন্দ্রের দাবি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথাই বলছে। তবে কি সেই কারণেই ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে? যে দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করে থাকেন তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে গত ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে মাত্র ২২ লক্ষ সরকারি চাকরি হয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার সময় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন প্রতি বছরে ২ কোটি করে চাকরি হবে। কিন্তু কোথায় কী! সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি ভারত। এই পরিস্থিতিতে খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া এই সম্পর্কিত যে তথ্য সামনে এল, তা উদ্বেগ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট বললেও কম বলা হয়।
অন্যদিকে গত ২০২৪ সালে ভারতের পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন ২ লক্ষের বেশি মানুষ। এই তথ্য জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। যদিও এই সংখ্যাটা ২০২২ ও ২০২৩ সালের তুলনায় একটু কমই। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন ২ লক্ষ ১৬ হাজার ২১৯ জন। আর ২০২২ সালে পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছিলেন ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২০ জন।
এই যে এত মানুষ যে ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন, তাঁদের সন্তানদের কী হবে? ভারতের নাগরিকত্ব আইন বলছেন, কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলে তাঁর সঙ্গে তাঁর সন্তানেরও নাগরিকত্বও চলে যায়, যদি সেই সন্তানের বয়স ১৮ বছরের কম হয়। তবে, তার বয়স যখন ১৮ হবে, তার ১ বছরের মধ্যে পুনরায় আবেদন করলে তাকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
