দিন দর্পণ, 24 জুলাই: ওবিসি মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওবিসির নতুন তালিকায় কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গিয়েছে রাজ্য। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। তাতে প্রধান বিচারপতি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের আবেদনের উপর শুনানি করতে সম্মত হয়েছেন। শুনানি হবে ২৮ জুলাই। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানা গিয়েছে। সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন তালিকা তৈরি করেছে রাজ্য। সেই তালিকার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে রাজ্য।
এদিন শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতির কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চের মামলাটির উল্লেখ করেন। এরপর বিষয়টি শুনতে সম্মত হয় বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চকে সিব্বল জানান, নতুন তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার রায়ে রাজ্যকে আইন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এই রায় এবং ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তা সম্পূর্ণ বিপরীত। এই প্রসঙ্গে ১৯৯২ সালের একটি পুরনো মামলার উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, এই মামলার রায় অনুসারে আদালত ওবিসিকে চিহ্নিত করতে পারে। এরপর সিব্বল জানান, হাইকোর্টে একটি অবমাননার আবেদন দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু কোনও অবমাননা না হওয়ায় মামলা স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে রাজ্যের তরফে।
ওবিসি তালিকা নিয়ে গত লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতায় এসে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তৃণমূল সরকার। ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট এই তালিকা বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি জানায়, ২০১০ সালের পর ইস্যু হয়েছে এমন কোনও ওবিসি সার্টিফিকেটের আইনি বৈধতা থাকবে না।
এরপর রাজ্য সরকার আবার নতুন একটি তালিকা তৈরি করে। নয়া মামলার ভিত্তিতে সেই তালিকার উপরও ১৭ জুন স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি ২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার বিরোধিতা করে আগেই মামলা দায়ের হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।
ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রেও। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ৩ এপ্রিল আদালতের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৬ হাজার শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী। এঁদের মধ্যে যোগ্য এবং অযোগ্য দু’ধরনের প্রার্থীরাই আছেন। পরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য প্রার্থীদের নতুন পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়। কিন্তু সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা থাকায় বিপাকে পড়েছেন ওবিসি প্রার্থীরা। সংরক্ষণ কীভাবে হবে তা নির্ধারিত না হওয়ায় তাঁরা পরীক্ষায় বসার আবেদন করতে সমস্যায় পড়েন। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়।
আদালত জানায় এসএসসির নয়া পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন ওবিসির এ ও বি ক্যাটাগরি চাকরিহারা শিক্ষকরা। কিন্তু ওই আবেদনপত্রে কোনও ক্যাটাগরির উল্লেখ থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয়, আবেদন করলেই যে তাঁরা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন তা-ও নয়। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই আবেদনের পরেও তা শেষমেশ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেই বিষয়টা নির্ভর করবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের উপর।
