দিন দর্পণ, 24 জুলাইঃ বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনী ঘিরে সরগরম কেন্দ্রীয় রাজনীতি। ভোটমুখী বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে বিধানসভায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সামিল হয়েছে আরজেডি-সহ বিরোধীরা। এদিকে, এখনও এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি নির্বাচন কমিশন। এদিনই এসআইআর-এর প্রতিবাদে পাটনায় বিধানসভা অভিযানে নামে কংগ্রেস ও দলের ছাত্র সংগঠন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে জলকামান ছোড়ে পুলিশ।
অন্তত পক্ষে ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা ব্যবস্থার প্রতিবাদ করে বিহারের গোটা বিরোধী শিবির বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের কথা ভাবছে বলে খবর। যদি সত্যিই সেটা হয় তাহলে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সেটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে থেকে যাবে।
বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন স্বৈরাচারী এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। শাসক দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জিতবে, এটা ভোটের আগেই কার্যত ঠিক করে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই কমিশন এই পদক্ষেপ করছে। এই অবস্থায় বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দেন। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘এই ইঙ্গিত শুধু হুমকি দেওয়ার জন্য নয়। বিরোধী শিবির ভোট বয়কটের কথা ভাবছে। আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলব। জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলব। সবাই যদি চায় তাহলে ভোট বয়কট করার কথা ভাবা যেতে পারে। এমন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের কোনও মানে হয় না। কে কত আসন জিতবে আগে থেকেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তাহলে আর নির্বাচন করিয়ে কী লাভ?’
বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট। সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা আছে। প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে। অথচ এই লক্ষ লক্ষ ভোটারই মোদিজিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। বেশ কয়েকটি সরকার গড়েছেন। তখন সব ঠিকই ছিল। এখন হঠাৎ কী গোলমাল হল? প্রশ্ন তো এটাই। এই অবস্থায় আমরা ভোট বয়কটের কথা বিবেচনা করে দেখছি। গণতন্ত্রে যদি মানুষই ভোট না দিতে পারে, তাহলে নির্বাচনের মানে কী? আমাদের কাছে এই বিকল্প পথটাই খোলা আছে।’ তিনি এই প্রক্রিয়াকে বিরোধীদের দুর্বল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আপাতত যে ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম বিহার থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে, তাতে কেন্দ্র কিছু কমবেশি ২৩ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়বে। বলা বাহুল্য তাতে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলের উপর বিরাট প্রভাব পড়বে। বিরোধীরা জানাচ্ছেন যে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে, তাঁদের বেশিরভাগ প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোট দিয়ে আসছেন। এই ভোটারদের একটা বড় অংশ সংখ্যালঘু। যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে আসছেন বহু বছর ধরে। আর এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তেজস্বী। তেজস্বী যেভাবে ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিঃসন্দেহে তাতে চাপে পড়ে যাচ্ছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটা শাসক দলের উপর বিরোধীদের চাপ বাড়ানোর কৌশল। তবে যাই হোক না কেন, লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে চলেছে এই পরিস্থিতি তৈরি হতেই বিরোধীরা যেভাবে এককাট্টা হয়ে এর বিরোধিতা করছে, তার যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এনডিএ জোটে থাকা জেডিইউ-এর সাংসদ গিরিধারী যাদব গোটা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কোনও বাস্তব ধ্যানধারণা নেই। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কোনও বাস্তব ধ্যানধারণা নেই। বিহারের ইতিহাস, ভূগোল ওদের জানা নেই। না হলে বর্ষার মধ্যে, চাষের সময়ে কেউ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নামে?’ এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায় এখন সেটাই দেখার।
