দিন দর্পণ, 19 জুলাইঃ অসমে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপর ‘ভাষাগত বৈষম্য’ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগে একাধিক বার সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের অসমে বাংলায় কথা বলার জন্য হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বাঙালিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অসম সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি। রবিবার এক ট্যুইট বার্তায় কেন্দ্র ও অসমের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বললেন, ‘বাংলা দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা। অসমেও এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা। সেই ভাষাকে সম্মান না দিয়ে, যাঁরা বাংলার পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে আওয়াজ তুলছেন, তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।’
এক্সে তিনি লিখেছেন, দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা বাংলা। অসমেও বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলেন। সকল ভাষা ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করা উচিৎ। যাঁরা নিজের মাতৃভাষাকে বজায় রেখে এই সহাবস্থান করছেন, সেই নাগরিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক। অসমের বিজেপির এই বিভেদমূলক কর্মকাণ্ড সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। অসমের মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তিনি সকল নির্ভীক নাগরিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। যাঁরা নিজেদের ভাষা, পরিচয় মর্যাদা রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লড়াই করছেন তাঁদের পাশে থাকবেন।
মমতার অভিযোগ, ভাষার ভিত্তিতে মানুষকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘সহাবস্থানের পক্ষপাতী নাগরিকদের ওপর যদি কেবল তাঁদের মাতৃভাষার জন্য অত্যাচার হয়, তা হলে তা সংবিধান পরিপন্থী। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু মানুষও চুপ করে বসে থাকবে না। অসমের মানুষ নিজেদের ভাষা ও অধিকারের সম্মানে প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াবে।’
মমতার অভিযোগ, অসমে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাংলা থেকে বহু শ্রমিকরা কাজ করতে যান ভিন রাজ্যে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। বাংলায় কথা বলার অভিযোগে তাঁদের আটক করে হেনস্থা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাঁদের আটক করে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলেদেশে পাঠানো হচ্ছে। ভিন রাজ্যে গেলে হেনস্থা হতে হচ্ছে। বাঙালির স্বার্থরক্ষায় সিএএ জরুরি এমনই কথা বলেছিলেন হেমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁকেই এইভাবে জবাব দিলেন মুখমন্ত্রী।
বাংলা ভাষাভাষীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমি পাশে আছি তাঁদের, যাঁরা ভাষা, পরিচয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য নির্ভীকভাবে লড়ছেন।’
প্রসঙ্গত, বাংলাভাষিদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সম্প্রতি কলকাতায় মিছিলও করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই মিছিল থেকে কেন্দ্রকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যেখানে বাংলা বলার জন্য মানুষকে আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আমি সেখানেই গিয়ে আরও জোরে বাংলায় কথা বলব। সাহস থাকলে আমাকেও ক্যাম্পে রাখুন!’ অবিলম্বে এই অত্যাচার বন্ধ না হলে সারা দেশ ঘুরে প্রতিবাদ জানানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির ভাষানীতির বিরুদ্ধে এই ইস্যুকে আরও জোরালো করে তুলতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই কৌশলের মোক্ষম অস্ত্রই হতে চলেছে ‘বাংলা’।
অসমে বাংলাভাষী মানুষের উপর ‘ভাষাগত বৈষম্য’ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। হিমন্ত বলেন, অসমের হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ার প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর সরকার যে কোনওরকম ভয়ভীতি কাটিয়ে সীমান্ত ডিঙিয়ে চলতি ও বেপরোয়া মুসলিম অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করে যাবে।
এক্সে একটি দীর্ঘ জবাবে বিশ্বশর্মা লিখেছেন, বাংলাদেশ থেকে অনবরত মুসলিম অনুপ্রবেশে তাঁর রাজ্যের ধর্মীয় জনসংখ্যার হার বিপদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। নিজ ভূমেই হিন্দু সম্প্রদায় একেবারে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা কোনও রাজনৈতিক কথার কথা নয়। এটাই এখন বাস্তব চিত্র। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত অনুপ্রবেশকে বৈদেশিক আগ্রাসন নামে চিহ্নিত করেছে। আর যখন আমরা আমাদের জমি, সংßৃñতি ও আত্মপরিচয় বাঁচানোর জন্য রুখে দাঁড়াই, তখনই আপনি সেটা নিয়ে রাজনীতি করতে পছন্দ করেন, লিখেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
