বিজেপির দিলীপ কাঁটা/ তাঁর উপস্থিতি, দলের অস্বস্তি


দিন দর্পণ, 18 জুলাইঃ বিজেপির গলার কাঁটা এখন দিলীপ ঘোষ। না পারছে গিলতে, না পারছে ফেলতে। সুকান্ত জমানায় ব্রাত্য ছিলেন বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ, আর শমীক জমানাতেও থেকে গেলেন ব্রাত্য হয়ে। অনেকে মনে করেছিলেন, দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় হয়তো দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে। তা সে মঞ্চেই হোক কিংবা দর্শকাসনে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা স্পষ্ট হয়ে যায় দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় থাকছেন না দিলীপ ঘোষ। তার পরই শুরু হয় দিলীপ ঘোষের দলবদলের জল্পনা। তাহলে কি ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে? এমন ধারণা একদম অমুলক ছিল না। কারণ দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে তাঁর চরম প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রন তিনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন তার পর থেকেই বিজেপি নেতাদের চক্ষুশূল হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তবে শুক্রবার সকালে হঠাৎ তাঁর দিল্লি সফর জল্পনা আরও ঘোরালো করে তোলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্গাপুরের সভার দিনেই দিল্লি গেলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এর থেকেই স্পষ্ট প্রধানমন্ত্রীর সভায় হাজির থাকবেন না তিনি। দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরের দাঁড়িয়ে অভিমানের সুরে তিনি বলেন, তিনি গেলে হয়তো দল অস্বস্তিতে পড়বে। কর্মীরা তাঁকে ডেকেছিলেন। তাই তিনি রাজি হয়েছিলেন সভায় যোগ দেওয়ার জন্য।

দলের পক্ষ থেকে তাঁকে ডাকা হয়নি। তাই যাচ্ছেন না। দল হয়তো চায় না, সেই কারণেই তার এই সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গে আসবেন খবর হওয়ার পরেই জল্পনা ছড়িয়েছিল, এই সভায় হাজির থাকবেন কিনা দিলীপ ঘোষ। সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, হাজির থাকবেন মোদির সভায়। সেই সময় স্পষ্ট বলেছিলেন, মঞ্চে হাজির না থাকলেও নিচে বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনবেন। কিন্তু সভার দিনেই বদলে গেল পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলায় জানা গিয়েছে, দিলীপ ঘোষের কাছে প্রধানমন্ত্রী সভার আমন্ত্রণ আসেনি। তারপরেই শুক্রবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে দেখা যায় তাঁকে। তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বলেছেন, দলের কাজেই দিল্লি যাচ্ছেন। বিশেষ কাজ রয়েছে সেখানে। বিগত কয়েকদিন আগে ২১ জুলাই নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেদিন বড় কিছু ঘটনা ঘটতে চলেছে বলে আভাস দিয়েছিলেন। এ দিনও একটা জল্পনা ছড়িয়েছে। কি বিশেষ কাজ নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন তিনি? স্পষ্ট করেননি। প্রথমে জানা গিয়েছিল, দলের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছে দাপুটে এই নেতার কাছে। যদিও পরে তিনি নিজেই দাবি করেছেন বঙ্গ বিজেপি আমন্ত্রণ করেনি। কর্মীদের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তিনি সভায় গেলে দলের অস্বস্তি বাড়বে। দলের অস্বস্তি কমাতেই তিনি এই সভায় যাচ্ছেন না।

প্রথম বার সর্বভারতীয় সভাপতির বাড়ি নির্ধারিত সময় পৌঁছে দেখা না পেলেও দ্বিতীয় বার প্রায় ৫০ মিনিট জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করলেন দিলীপ ঘোষ। বৈঠক শেষ হওয়া মাত্রই বেরিয়ে গেলেন গাড়ি নিয়ে। তবে গাড়ির কাচ নামালেন না। কোনও প্রশ্নেরও উত্তর দিলেন না। কিছুটা এগিয়ে গাড়ির কাচ একটু নামিয়ে শুধু বললেন, খুব ভাল গল্প হয়েছে।

ক্যামেরার সামনে সদা সাবলীল যে দিলীপ ঘোষ কখনও কোন প্রশ্নই পিছপা হন না, তিনি হঠাৎ মুখে কেন কুলুপ আঁটলেন? তবে কি আপাতত মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে? বাড়ছে চাপানউতোর। এদিকে এদিনই আবার বাংলায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি ভোটমুখী বাংলায় দলীয় সভা করেন তিনি। শমীক থেকে শুভেন্দু, সকলেরই লোকেশন যখন দুর্গাপুর। তখন দিলীপের গন্তব্য দিল্লি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *