দিন দর্পণ, 17 জুলাই মাস চারেক পর বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তবে ক্ষমতা ধরে রাখার ব্যাপারে একেবারেই নিশ্চিত নন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। আর সেই কারণেই আগে থেকে প্রতিশ্রুতি ফোয়ারা ওড়াচ্ছেন নীতীশ কুমার। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মাসে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেবে তার সরকার। বিহারের এমন ১ কোটি ৬৭ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তিনি লিখেছেন, ‘আগামী ১ আগস্ট থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা পাবেন বিহারবাসী। দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সস্তায় বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে আসছি আমরা। তবে এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১ আগস্ট থেকে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচে কাউকে বিলের টাকা দিতে হবে না।’ সেই সঙ্গে তাপবিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আগামী তিন বছরে বিহারের বিভিন্ন জেলায় আরও বেশি সংখ্যক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও কি গলবে বিষিয়ে যাওয়া ভোটারদের মন? এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
তিনি আরও লেখেন, ‘রাজ্যের মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ পরিবার সরাসরি এই সুবিধা পাবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী তিন বছরে এই সমস্ত গৃহস্থ গ্রাহকদের সম্মতি নিয়ে বাড়ির ছাদ বা নিকটতম স্থানে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘কুটির জ্যোতি যোজনা’র আওতায়, রাজ্য সরকার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে। বাকি খরচের জন্য সরকার যথাযথ সহায়তাও দেবে। এর ফলে গৃহস্থ গ্রাহকদের আর ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচও করতে হবে না।
কিছুদিন আগে বয়স্ক নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের মাসিক পেনশনের টাকা ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করেছেন নীতীশ। চলতি মাস থেকে এই বর্ধিত হারে ভাতা পাচ্ছেন তাঁরা। এছাড়া সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হল এই সমস্ত জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা কেন ভোটের মুখে করতে হচ্ছে? কেন এতদিন সেটা করেননি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী? তবে কি নির্বাচনে জয় নিয়ে নিশ্চিত নন বলেই এভাবে বিহারবাসীর মন জয়ের চেষ্টা করছেন জেডি ইউ প্রধান? প্রত্যাশিতভাবে বিহার জুড়ে এই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে শুধু বিহার নয়, দেশের রাজধানী দিল্লিতে ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে ৫৪.৫ লক্ষেরও বেশি গৃহস্থ গ্রাহকের মধ্যে ২৭ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক প্রতি মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সরকার ২০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারী প্রায় সাড়ে ১৫ লক্ষ গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিলের উপর ৫০ শতাংশ ভর্তুকিও দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ভর্তুকি থেকে উপকৃত গৃহস্থ গ্রাহক প্রায় ৮৬ শতাংশ। দিল্লি সরকার প্রতি বছর বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।
সম্প্রতি একটি রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে, বিহার সরকারের জ্বালানি বিভাগ অর্থ বিভাগের কাছে একটি প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। জেডিইউ মুখপাত্র নীরজ কুমার রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানান, নীতীশ কুমারের সরকার বিহারের জনগণের জন্য বহু ঘোষণা করছে। আগের শাসনকালে লণ্ঠন জ্বলত, এখন প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের শেষেই বিহারের বিধানসভা ভোট। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজও চলছে। চূড়ান্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে, আশা করা হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিহারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে।
