দিন দর্পণ, 16 জুলাইঃ গত ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে দেশ জুড়ে মাত্র ২২ লক্ষ সরকারি চাকরি হয়েছে। খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মিবর্গ মন্ত্রক সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। শুধু তাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে দেশের যুবসমাজের মধ্যে বেড়েছে বেকারত্বের হার। গত জুন মাসে দেশে যুব সমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশ। ১৫-২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে গত মে মাসে বেকারত্বের হার ছিল ১৫ শতাংশ। একমাস পরেই সেটি কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার গত মে মাসে ছিল ১৭.৯ শতাংশ। জুন মাসে সেটি বেড়ে হয়েছে ১৮.৮ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে সেটি মে মাসের তুলনায় জুন মাসে ০.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩.৮ শতাংশ। তবে মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার সামান্য হলেও কমেছে।
২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন প্রতি বছরে তাঁর সরকার ২ কোটি করে চাকরির ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ গত ১১ বছরে ২২ কোটি চাকরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে চাকরি হয়েছে মাত্র ২২ লক্ষের। অর্থাৎ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তার ধারে কাছে যেতে পারেনি বাস্তব পরিস্থিতি। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর ‘রোজগার মেলা’র মাধ্যমে নিয়োগপত্র কাদের দেওয়া হয়েছে সেটাও সরকার সবিস্তারে জানায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ নিয়োগের সংখ্যা এখন কত রয়েছে, তারও স্পষ্ট তথ্য নেই।
২০২২ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেই বছরে ২ কোটি তো দূরের কথা, চাকরি হয়েছিল মাত্র সাত লক্ষের। এরপরই ‘রোজগার মেলা’র মাধ্যমে নিয়োগপত্র বিলি করতে শুরু করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। দাবি করা হয় চাকরি দেওয়ার সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে। কিন্তু সেটাও বাস্তবায়িত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, ‘রোজগার মেলা’র মাধ্যমে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বেশি চাকরি প্রদান করা হয়েছে। সেই কারণেই এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী যখন প্রতি বছরে ২ কোটি করে চাকরির কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছিল সব মহল। এর ফলে গোটা দেশের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে সবাই মনে করেছিলেন। কিন্তু কোথায় কী! পরবর্তীতে দেখা গেল কর্মসংস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সুস্পষ্ট নীতির অভাব রয়েছে। সেখানে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে বলে ওয়াকিবহল মহল মনে করে। যা কিন্তু কাম্য ছিল না। তাই বিরোধীরা বহু দিন ধরেই কটাক্ষ করে বলছেন, এগুলি বিজেপির ‘জুমলা’ প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। সেখানে এই বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধীরা যে ঝড় তুলবেন, তা অনুমান করাই যায়।
