ফেরান্দোর বিদায়, নতুন কোচ হাবাস


নিজস্ব প্রতিবেদন, উলটপুরাণ। ২০২১ সালে ঠিক উল্টো ছবি দেখা গিয়েছিল মোহনবাগানে। সে বার হাবাসের কোচিংয়ে আইএসএলে সাফল্য আসছিল না। ওই মরসুমেই গোয়ার কোচ হিসেবে ডুরান্ড কাপ জিতেছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। ওই সাফল্যের কথা মাথায় রেখে মরসুমের মাঝপথে হাবাসকে সরিয়ে বাগানের কোচ হয়েছিলেন ফেরান্দো। দু’বছর পর সেই ফেরান্দোকে সরিয়ে আবার বাগানের হটসিটে এলেন হাবাস।

™রপর তিন ম্যাচে হারের পর জুয়ান ফেরা¨োর বিদায় নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। সেটাই সত্যি হল নতুন বছরের শুরুতে। কোচ ফেরা¨োকে সরিয়ে মোহনবাগানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আন্তোনিও হাবাসকে দেওয়া হল দলের দায়িত্ব। তাঁর কোচিংয়েই সুপার কাপ এবং মরসুমের বাকি ম্যাচ খেলবে  বাগান। এএফসি কাপে ব্যর্থতা, আইএসএলে পরপর তিন ম্যাচে হার, এর জেরেই ফেরান্দোর ওপর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

সুপার কাপ পর্যন্ত সময় পাবেন, তার আগেই সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু কলিঙ্গ সুপার কাপ। এক সপ্তাহ সময় পাবেন হাবাস দল গোছানোর জন্য। হাবাসেই আপাতত ভরসা রাখছেন কর্তারা। আশা করা হচ্ছে, হাবাসের হাত ধরেই মোহনবাগান আবার জয়ে ফিরবে।

এই মরসুমে ফেরান্দোকে সরানোর পিছনে তিনটে যুক্তি দেখানো হচ্ছে।

 আইএসএলে টানা ৭ ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন ফেরান্দো। কিন্তু শেষ ৩ ম্যাচে দলকে জেতাতে পারেননি। তার মধ্যে ঘরের মাঠে ২টো ম্যাচে হার। ভালো দল দেওয়া সত্ত্বেও টিমকে প্রত্যাশিত সাফল্য দিতে পারেননি, এই অভিযোগ ছিল ফেরান্দোর বিরুদ্ধে।

 কার্ড এবং চোটের সমস্যাতেই মোহনবাগান বেলাইন হয়ে পড়ে। চোট যে কোনও সময় টিমকে চাপে ফেলে দিতে পারে। এটা মাথায় রেখেই কোচেরা রিজার্ভ বেঞ্চ গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। মোহনবাগানের রিজার্ভ বেঞ্চে ভারতের অন্যতম সেরা প্লেয়াররা রয়েছেন। তারপরও ফেরান্দো কেন পরিবর্ত প্লেয়ারদের তৈরি রাখতে পারলেন না।

তিন, যে কোনও লম্বা লিগে ৩ পয়েন্ট যেমন লিগ টেবলের অবস্থান বদলে দেয়, তেমনই ১ পয়েন্ট অক্সিজেন দেয়। ফেরান্দো বরাবর আগ্রাসী ছক নিয়েই মাঠে নামার চেষ্টা করেন। টানা ৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার মধ্যে ৫টাতে এসেছিল জয়। শেষ ৩ ম্যাচে হারের ময়না তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ডিফেন্সই ঠিকঠাক সাজাতে পারেননি ফেরান্দো। যা তাঁর মতো অভিজ্ঞ কোচের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না।

২৭ ডিসেম্বর কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে হারের পর ফেরান্দোর কোচিং নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তখনই প্রায় চাকরি যায় যায় অবস্থা। ফেরান্দোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে বসেছিলেন বাগান কর্তারা। বলা হয়েছিল, ওই কয়েক দফা বৈঠকে ফেরান্দো কর্তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন কোন পরিস্থিতির মধ্যে ৩টে ম্যাচ হেরেছে তাঁর টিম। তিনি বুঝিয়েছিলেন, সময় পেলে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারবেন। অন্তত সুপার কাপ পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক তাঁকে। ফেরান্দোর কথায় যে চিঁড়ে ভেজেনি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবার দুপুরে। এক সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে আজ, বুধবার বিকেলেই প্র্যাক্টিসে ফিরছে মোহনবাগান। তার আগে ফেরান্দো ছাঁটাই হয়ে গেলেন বাগান থেকে। ৮ তারিখ ওড়িশা রওনা দেবে মোহনবাগান সুপার কাপ খেলার জন্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *