দিন দর্পণ, ২৯এপ্রিল, শ্রীনগরঃ কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ৪৮টি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করে দিল রাজ্য সরকার।সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঝুঁকি এড়াতে কাশ্মীরের মোট ৮৭টি পর্যটনস্থলের মধ্যে ৪৮টি-ই সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সিদের সূত্র জানায় পহেলগাঁও-তেই আটকে থাকবে না পাক জঙ্গিরা।দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভেঙে টানা পাঁচদিন ধরে গোলাগুলি চালিয়ে যাচ্ছে পাক বাহিনী।এই পরিস্তিতিতে গোয়েন্দা এজেন্সি অনুমান করছেন এই গোলাবর্ষণের আড়ালেই জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারে।এমনকী ভারতের হামলার ভয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক রাডার প্রযুক্তি সিয়ালকোটের কাছে মোতায়েন করে রেখেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে ইউসমার্গ, তৌসিময়দান, দুধপাথরি, আহরবাল, কাউসারনাগ, বাঙ্গুস, চান্দিগাম, উলার, রামপোরা প্রভৃতি এলাকা।সরকারি এক কর্তা জানিয়েছেন, গুলমার্গ, সোনমার্গ, ডাল লেক-সহ অন্য যে সব পর্যটনকেন্দ্র খোলা রয়েছে, সেগুলিতেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।শুধু তা-ই নয়, পহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়া হিসাবে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর, ডোডা এবং কিশ্তোয়ারের বেশ কিছু জায়গায় অভিযান চালিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা।নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, মাত্র ছ’দিনে উপত্যকার ৬০০টিরও বেশি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
কাশ্মীরে এখন ভরা পর্যটন মরশুম।যদিও পহলগামের ঘটনার পর কাতারে কাতারে পর্যটকরা কাশ্মীর ছেড়েছেন।২২ এপ্রিলের পর বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর প্রায় পর্যটকশূন্য।দেশের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি আড়ি পেতে বার্তা ডিকোড করে জানতে পেরেছে যে, পহেলগাঁওয়ের পর কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি আত্মগোপন করে থাকা গোষ্ঠী হঠাৎই সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, কাশ্মীরের রেলওয়ে পরিকাঠামোতেও হামলা চালিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করার ছক কষেছে আইএসআই।এই মুহূর্তে রেলওয়ে নির্মাণকাজের জন্য কয়েক শো অ-কাশ্মীরি সেখানে রয়েছেন।ভারতের তরফেও জঙ্গি হামলা ঠেকাতে একটি ফিদায়েঁ-রোধী বাহিনী গড়া হয়েছে।জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ থেকে প্রাথমিকভাবে লোক নিয়োগ করে গুলমার্গ, সোনমার্গ ও ডাল লেকের কাছে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
