দিন দর্পণ, ১৮এপ্রিলঃ ইউনেস্কোর মেমরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারারে স্থান পেল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে লিখেছেন বিশ্বজুড়ে প্রতিটি ভারতীয়ের আজ গর্বের দিন।ইউনেস্কোর এই মর্যাদা আমাদের কালজয়ী চিরন্তন জ্ঞান এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ।গীতা ও নাট্যশাস্ত্র শতাধীর পর শতাধী ধরে আমাদের সভ্যতা এবং চেতনাকে বিকশিত করেছে।এর অন্তর্দৃষ্টি ও দর্শন পৃথিবীর মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করে এসেছে।শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র ইউনেস্কোর মেমরি অফ দ্য ওর্য়াল্ড রেজিস্টার, যা অপরিসীম মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী দলিলের সংগ্রহে স্থান পেয়েছে।প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কেন্দ্রীয় সংßৃñতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতও রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন এবং দেশের ঐতিহ্য-পরম্পরার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বলে বর্ণনা করেন।
ইউনেস্কোর মেমরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক লেখ্য, পাণ্ডুলিপি এবং দলিলকে স্বীকৃতি দেয়, এটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।যে লেখাপত্র যুগ যুগ ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমাজকে প্রভাবিত করে এসেছে, সেগুলিকেই এই মর্যাদা দিয়ে থাকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বন্ধু অর্জুনকে যে বাণী দিয়েছিলেন, তাই পৃথকভাবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত।অন্যদিকে, বৈদিক যুগে ভরত মুনি নাট্যশাস্ত্র লিখেছিলেন।নৃত্যকলা, অভিনয়, গীত-সুরের ভিত্তি বলে এই শাস্ত্রকে বেদ বলে ধরা হয়।ভারতের অন্যান্য ১২টি ঐতিহ্য যা এই রেজিস্টারে রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ঋগ্বেদের পাণ্ডুলিপি, রামচরিতমানস, তামিল চিকিৎসা পাণ্ডুলিপি এবং সাহিত্য সম্মেলনের আর্কাইভ। এই ১৪টি স্বীকৃতি ভারতের জ্ঞান, শিল্প এবং সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী প্রভাবের প্রমাণ।
ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং নাট্যশাস্ত্রের বিশ্বব্যাপী গবেষণা, অনুবাদ এবং শিক্ষার প্রচারে নতুন গতি সঞ্চার করবে।এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াবে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, সহনশীলতা এবং শৈল্পিক উৎকর্ষের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।এই গ্রন্থগুলি ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বিশ্ব সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
