বাবন ধুঁয়া, ০৩.০১.২৪ সময়ঃ ৪.২০
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি বছরে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনী দিনক্ষণ ঘোষণা করার আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদি সরকার। আইনের বিধিগুলি জনসমক্ষে আনতে সরকার প্রস্তুত বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক সরকারি আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিধিগুলি জারি করা করা হতে পারে। আইনটি কার্যকরের পাশাপাশি যোগ্যদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন। ২০১৯ সালে আইন তৈরি করা হলেও, চার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তা লাগু করা যায়নি।
তাই, লোকসভা নির্বাচনের আগে তা চালু করার চিন্তাভাবনা সরকার নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওই আধিকারিক। আগামী মে মাসে শেষ হবে ১৮ তম লোকসভার মেয়াদ। তার আগে হতে পারে নির্বাচন। নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি চালু করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে, আইনটি লাগু করার আগেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সরকারি আধিকারিক।
ওই সরকারি আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিধি প্রস্তুত। তৈরি অনলাইন পোর্টালও। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হবে বলে জানিয়েছেন। আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনও নথি চাওয়া হবে না।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এসেছে, তাদের চিহ্নিত করাই এই আইন লাগু করার উদ্দেশ্য। তবে এই আইনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অ-মুসলিম সম্প্রদায়গুলিকে। এর ফলে বিজেপি সরকার প্রণীত এই আইন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীরা একে বৈষম্যমূলক আইন বলে ইতিমধ্যে দাবি করে সরব হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু করা নিয়ে সওয়াল করেছিলেন তিনি। এই আইন বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ বলে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছিলেন। কেউ সরকারকে আটকাতে পারবে না বলেও দিয়েছিলেন হুঁশিয়ারি।
যদিও আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি থাকতে বাংলায় এই আইন চালু করা যাবে না বলে কেন্দ্রকে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন। কেন্দ্র লোকসভা ভোটের আগে লাগু করলে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশ ফের উত্তাল হতে পারে বলে আশঙ্কা।
১৯৫৫ সালে দেশে নাগরিকত্ব আইন করা হয়েছিল বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। ৬৪ বছর পর সেই আইন সংশোধন করে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর সংজ্ঞাটি বদলানো হয়। ১৯৫৫ সালের আইনে ২ নম্বর ধারায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের সংশোধনীতে ২ নম্বর ধারাটি সংশোধন করে ২(১)বি যুক্ত করা হয়। সেই ধারায় বলা হয়- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানরা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর দলে পড়বে না। এই সংশোধনীটি আনার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে আগুন জ্বলে। এই আইন ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘সংবিধানের পরিপন্থী’ এই দাবি বারবার উঠে আসে আন্দোলনকারীদের মুখে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করায় কেন্দ্র জানায়, এই আইন পুরোপুরি বৈধ ও সাংবিধানিক।
কিন্তু আজও এই আইনের ধারা তৈরি করা যায়নি। বার বারই অতিরিক্ত সময় চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এমন গুঞ্জনও ছিল, মোদি সরকার এই আইন কার্যকর করতে আর ততটা আগ্রহী নয়। কিন্তু সম্প্রতি বঙ্গ সফরে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, সিএএ চালু হতে চলেছে। আর এবার সামনে এল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকের দাবি। তিনি বলেছেন, রুল তৈরি হয়ে গিয়েছে। অনলাইন পোর্টালও প্রস্তুত। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই অনলাইন, এবং আবেদনকারীরা মোবাইল ফোন থেকেই আবেদন করতে পারবেন। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনের ঘোষণার আগেই চালু হতে পারে সিএএ।
