দিন দর্পণ, ১২এপ্রিল, মুর্শিদাবাদঃ শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের সকাল পর্যন্ত উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা।মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে অশান্তির মাঝেই চলল গুলি।দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে শনিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।আহতদের নাম হাসান শেখ (১২) ও গোলাম মহিউদ্দিন শেখ (২১)।গুলিবদ্ধ দুইজনকে চিকিৎসার জন্য শনিবার সকালে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।যদিও, সরকারিভাবে গুলি চালনার বিষয়টি নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।শুক্রবার ও শনিবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সামশেরগঞ্জ থানায় প্রায় ৬৫ জন এবং সুতি থানা এলাকায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মুর্শিদাবাদ পুলিশ প্রশাসনকে সাহায্য করছে বিএসএফ।উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় টহল দিচ্ছেন বিএসএফ জওয়ানরা।
শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সুতি-সামশেরগঞ্জে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে।সেই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় এক কিশোর সহ দুজন।কেবল গুলি নয়, মুড়ি মুড়কির মতো বোমাও পড়তে দেখা যায় শুক্রবার।সেই সঙ্গে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট-পাথরও।তাতে বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হন।ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ।জঙ্গিপুরের ঘটনার পর ১৬৩ ধারা অমান্য করে প্রতিবাদে নামে স্থানীয়রা।তারা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের বাধায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাকবাংলো ও রতনপুর এলাকায় পরিস্থিতি সব থেকে খারাপ হয়।আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ট্রাফিক পুলিশের অফিস।জ্বালানো হয় সরকারি-বেসরকারি বাস।বাদ যায়নি অ্যাম্বুল্যান্সও।যে দিকে তাকানো যায়, সেদিকেই ভাঙচুরের ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল অফিস, বেশ কয়েকটি প্রাইভেট গাড়ি, বাইকও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।পুলিশ সংযত থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন।কথা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেও।
