দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আবারও কলকাতায় সেক্টর ফাইভে আন্তর্জাতিক কল সেন্টারের আড়ালে বড় চক্রান্ত।কয়েকদিন আগেই বিধাননগর সাইবার থানার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন।তাঁদের কেই জেরা করে ওই একই সূত্র ধরে আরও চারজনকে গ্রেপ্তারকরল পুলিশ।তবে এর পিছনে আরও বড়ো কোনও চক্র আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।এই চক্রের এখনো পর্যন্ত অন্যতম পান্ডা শুভ্রনারায়ণ দাস মন্ডল, ইতিমধ্যেই তাকে গেপ্তার করা হয়েছে।গত মাসের শেষের দিকে এই আন্তর্জাতিক কল সেন্টারের পর্দাফাঁস হয়েছিল।লেকটাউনের একটি বাড়ি থেকে তিন কোটি টাকাও উদ্ধার হয়েছিল বলে খবর।
কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার করা কল সেন্টারের তিনজনের থেকে আরও তথ্য সূত্র পেয়ে এবার আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সোমবার রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকায় হানা দেন তদন্তকারীরা।সেখানেই একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অপর চারজনকে।ওই বাড়ি থেকে মোবাইল এবং ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়,ধৃতরা কল সেন্টারের আড়ালে প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল।মূলত সাধারণ মানুষকে ফোন করে সফটওয়্যার সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত।সাধারণ মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিলে বিভিন্নভাবে ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নিত।
শুভ্রনারায়ণ দাস মণ্ডল আন্তর্জাতিক ভুয়ো কল সেন্টার চালাত বলে খবর।গতকাল তাকে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ব্যক্তিই এই আন্তর্জাতিক ভুয়ো কল সেন্টার চালাত বলে খবর।ফোনকলের মাধ্যমে বহু মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছে বলে অনুমান।ধৃতদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে প্রচুর তথ্য পাওয়া যাবে বলেও অনুমান।ধৃতদের ধারাবাহিক জেরা করে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।এমন কথাও অনুমান করা হচ্ছে।ধৃতদের ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।ধৃতদের আজ মঙ্গলবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।এর সাথে আর কারা এই চক্রে জড়িয়ে, তারও খোঁজ চলছে।
বিধাননগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ ও বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছিল।মোট ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। সেক্টর ফাইভের বিল্ডিং থেকে উদ্ধার হয় ৬৭ লক্ষ টাকা।বাগুইআটি চিনার পার্কের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার ৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।পাশাপাশি, সোনার গয়না, ১৪টি ফোন, দুটো নোটবুক, একটি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, ছয়টি ডেস্কটপ, এছাড়াও চারটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
