২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক চাকরি বাতিলে সমস্যায় রাজ্যের একাধিক স্কুল


দিন দর্পণ, ৫এপ্রিলঃ রাজ্যে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের প্রভাব শুধুমাত্র শিক্ষকদের উপরেই পড়েছে এমনটা নয়।শিক্ষকদের পাশাপাশি রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলেও এর প্রভাব পড়েছে।রাজ্যের এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নিয়ে।একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষকদের অভাব খুবই আশঙ্কাজনক ভাবে পড়েছে।সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যের ৩১২৫টি স্কুলে প্রভাব পড়েছে।এই স্কুল গুলিতে কোথাও এক বা দুই  শিক্ষক আবার কোথাও ৪থেকে পাঁচজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে।এর ফলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান কার্যত বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু উচ্চ মাধ্যমিক নয়, নবম ও দশম শ্রেণির স্তরেও একই অবস্থা।চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে ৫৪২৬টি স্কুলে শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।এদের অনেকেই মূল বিষয় যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান পড়াতেন।শুধুমাত্র শিক্ষক নয়, স্কুলের প্রশাসনিক পরিকাঠামোও ভেঙেছে।গ্রুপ সি বিভাগের চাকরি বাতিলের ফলে প্রভাব পড়ছে ২২১৫টি স্কুলে।গ্রুপ ডি বিভাগের চাকরি বাতিলের প্রভাব পড়তে চলেছে ৩৮৮৫টি স্কুলে।

এই দুই স্তরের কর্মীদের অনুপস্থিতিতে স্কুলের দৈনন্দিন অনেক কাজকর্ম, রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রছাত্রীদের নথিপত্র পরিচালনা ও অন্যান্য লজিস্টিক বিষয় ব্যাহত হবে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞরা।স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত শিক্ষা মহল।স্কুল শিক্ষা দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলেই অন্তত একজন কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন।বহু স্কুলেই দুজন বা তারও বেশি সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন।এই ছাঁটাই-এর ফলে পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজ;সব কিছুর উপরই ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক সংগঠন ও অভিভাবকেরা।তবে, স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে আপাতত এই শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *