সন্দেশখালিতে নদী বাঁধে ভাঙ্গন, সন্দেশখালীর কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত


এহসানুল হক, বসিরহাটঃ বঙ্গে গরমের দাপটে মানুষের নাজেহাল অবস্থা।বৃষ্টির কোনও দেখা নেই।এরমধ্যেই বড় বিপদ  সন্দেশখালিতে।রায়মঙ্গল নদীর বাঁধে দেখা যায় বিশাল ধস।সেই আতঙ্কে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।নদী ভাঙ্গনে জলের তলায় তলিয়ে গেল কয়েকটি গ্রাম।এই ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালি ব্লকের আতাপুর তালতলা এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে ভাঙ্গন দেখা যায় আতাপুর কলাগাছিয়া নদীর বাঁধে।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের তৎপরতায় বেশ কিছুটা বাঁধ বাধার চেষ্টা করা হলেও সেই বাঁধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।এদিন দুপুরের জোয়ারে সেই বাঁধ ভেঙে মনিপুর পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের জল ঢুকতে শুরু করে।মুহূর্তের মধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়ে দশটি গ্রাম।মাঠের সবজি থেকে শুরু করে পুকুরের মাছ নদীর নোনা জলে সব নষ্ট হয়ে গেছে।বহু মানুষ ঘর ছেড়ে নদীর বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।প্রশাসনের তরফ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুকনো খাবার ও পলিথিন দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জলের এতটাই স্রোত যে সেই সময় কোন কিছু করা সম্ভব হয়নি।তবে একটু ভাটা নামলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হবে।এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দার অনামিকা মন্ডল বলেন, মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে।অল্প কিছু জিনিসপত্র বাড়িতে ছিল সেইগুলো নিয়ে কোন রকমে নদীর বাঁধের উপরে আশ্রয় নিয়েছি।প্রশাসনের তরফ থেকে তেমন কোন সাহায্য পাচ্ছি না, এমনটাই দাবি এলাকাবাসীদের।আমরা চাই দ্রুত বাঁধ মেরামতি করে দিক প্রশাসন।এই বিষয়ে সন্দেশখালীর বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, প্রশাসনের তরফ থেকে সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে ,নদীর বাঁধ মেরামতি করার।কিন্তু প্রবল জলের স্রোত থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।ভাটা নামলেই দ্রুত মেরামতি করা হবে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসনের তরফ থেকে সব রকম সাহায্য করা হচ্ছে।এলাকার মানুষেরা আরও অভিযোগ করেন,মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সুন্দরবন এলাকার উন্নয়নের কথা বারবার ঘোষণা করছেন।কিন্তু এই এলাকার মানুষের দুর্গতি আজও কমেনি।যেভাবে আতাপুর এলাকায় নদী বাঁধে ভাঙ্গন ধরেছে তাতে করে প্রাণহানিও ঘটতে পারে।তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হবে না।মানুষের জীবন নিয়ে ছেলে খেলা চলছে।বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, সন্দেশখালি বিধানসভা দ্বীপে ঘেরা।নদী-মাতৃক।তৃণমূল নেতাদের দ্বারা সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর সন্দেশখালি।

এই নদীবাঁধে ভাঙন নতুন ঘটনা নয়।এর জেরে প্রতিবছর গবাদি পশুর প্রাণহানি, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়া সবটাই হয়েছে সন্দেশখালিতে।কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের তো কোনও হেলদোল নেই।তাঁরা নিজেদের পকেট ভরতেই ব্যস্ত।তবে এখানকার মানুষের প্রতি আমাদের আস্থা আছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতবে এখানে।যদিও বুধবার সকাল থেকেই প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধ মেরামতির কাজে হাত লাগান সকলে।যতটা বাদ মেরামতি করা যায় সেই চেষ্টাই করছেন প্রশাসন।অমাবস্যার ভরা কোটালে নদীবাঁধে ফাটল ধরেছিল।সংস্কারের কাজ শুরু হলেও বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে নোনা জল ঢুকল সন্দেশখালির আতাপুর মণিপুর পঞ্চায়েতের তালতলা ঘাট এলাকায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *