দিন দর্পণ, হাওড়াঃ গত কয়েকদিন থেকে জলসঙ্কটে ছিল হাওড়ার বেলগাছিয়া।সেই সমস্যার সমাধান মিটলেও একের পর এক অন্য সমস্যা তো লেগেই আছে।বেলগাছিয়ার ভাগাড় সংলগ্ন এলাকায় ধসের কারণে গৃহহীন হয়েছে অনেক পরিবার।কিন্তু, এবার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িগুলিতে গোড়ালি ডোবা জল।কালো, নোংরা সে জল ঢুকেছে ঘরের ভিতর।কোনওরকম বৃষ্টি নয়, পুরোটাই ভাগাড়ের জল।
২০ মার্চ ভাগাড় এলাকার একটি বহু পুরোনো পানীয় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছিল।সেই পাইপ জুড়তে গিয়ে ধস নামে এলাকায়, গিলতে আসে এলাকার ভাগাড়।এ বার সেই ভাগাড়ের বর্জ্য গিয়ে জমেছে এলাকার ড্রেনগুলিতে।আর তাতেই জল জমেছে বাড়িগুলিতে।একই সঙ্গে অভিযোগ উঠছে, ভাগাড়ের বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমে বিপত্তি ঘটছে এলাকায়।সোমবার থেকে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে না কিন্তু শহরের জঞ্জাল ফেলার কোনও বিকল্প জায়গা পাওয়া যায়নি।ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ভ্যাটে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ।যা ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়।ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে, বাজে গন্ধ ছড়াচ্ছে।
হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার বহু বাড়িতেই জলে দাঁড়িয়ে চলছে রান্নাবান্না, গৃহস্থালির কাজ।স্থানীয়দের দাবি, ‘এ তো আজকের সমস্যা নয়।১৭ বছর হয়ে গেলো একই রকম অবস্থা।কিন্তু, আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় এ অবস্থা সামনে আসছে।কিন্তু এতগুলো দিন ধরে রাস্তা উঁচু, ঘর নিচু হয়ে নর্দমার জল ঘরে ঢুকে পড়ছে।একেবারেই জল নিকাশির ব্যবস্থা নেই।এমনি বৃষ্টি হলেই জল ঢুকে যায়।খাবার জলও ঠিকমতো পাই না।’ভয় ধরাচ্ছে এই ভাগাড়।এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবার নিয়ে স্থানীয় ক্লাবে বৈঠক হয় মঙ্গলবার।পুলিশ প্রশাসন এই বৈঠক করে।স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের পুনর্বাসন দিতে হবে।কিন্তু পুনর্বাসন দিতে হলে এলাকা খালি করতে হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এহেন পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধানে মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।সূত্রের খবর, সেখানেই এই আবর্জনা ফেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে খবর।হাওড়ার বেলগাছিয়া কাণ্ডের জেরে এবার প্রতিদিন হাওড়া থেকে ৩০০ মেট্রিক টন বর্জ্য আসবে ধাপায়।এছাড়াও হাওড়ার বাকি ২৫০ টন বর্জ্য আপাত ফেলা হবে বৈদ্যবাটি পুরসভায়।পুরসভা সূত্রের খবর, হাওড়া থেকে আসা বর্জ্য আপাতত ধাপার জৈব সার কারখানায় ফেলা হবে।সেখানে জঞ্জাল পুনর্নবীকরণের কাজ হবে।
