দিন দর্পণ, ২৪মার্চঃ এবার শহরাঞ্চলগুলিতেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শহর ও শহরতলীতে বসবাসকারী সেই পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্দ্যোগ।তাঁদের মাথার ছাদকে পাকাপাকিভাবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নবান্নের পক্ষ থেকে।এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করে জানানো হয়েছে, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে প্রকল্পটি রূপায়ণের কাজ শুরু করা হবে।বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের মঞ্চের ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, আগামী পাঁচ বছরে শুধুমাত্র পুরসভা এলাকাগুলিতে ২ লক্ষ ১০ হাজার পাকা বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহুরে বস্তিবাসীদের জীবনযাত্রার উন্নত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
পঞ্চায়েত এলাকার পর এ বার পুরসভা এলাকাগুলিতেও বস্তিবাসীদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় শহরের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের মাথার উপর ছাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।সম্প্রতি নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে আনুমানিক ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা খরচ হবে।এর আগে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১২ লক্ষ মানুষকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে।গ্রামীণ অঞ্চলে এই প্রকল্পের জন্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।এ বার শহরাঞ্চলে এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব পেয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
নবান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্রুত গতিতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে শহরাঞ্চলের বস্তিবাসীদের মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করা যায়।তবে আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এই কাজ হবে বলে জানিয়েছে নবান্নের একটি সূত্র।যদিও প্রকল্প রূপায়ণে কেন্দ্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থে উদ্যোগ শুরু করতে প্রস্তুত।এই প্রকল্প ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।রাজ্যের তরফে অভিযোগ, কেন্দ্র নির্ধারিত অর্থ না দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।তবে কেন্দ্রের দাবি, তারা নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ করছে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়ায় বকেয়া অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।
