দিন দর্পণ, ১৩ মার্চঃ বহু প্রতীক্ষার পর মহাকাশের বন্দীঅবস্থান কাটিয়ে এসপ্তাহেই পৃথিবীতে ফেরার কথা ছিল সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর।মাত্র কিছুদিন আগেই একথা জানিয়েছিল নাসা-স্পেস এক্স।কিন্তু ফের আশা ভাঙল।যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল দু’জনের পৃথিবীতে ফেরা।যাবতীয় গোলযোগ সারিয়ে মহাকাশযানটিকে কবে পৃথিবীতে পিরিয়ে আনা সম্ভব হবে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।১২ মার্চ নাসা-স্পেস এক্সের রকেটের মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল।কিন্তু লঞ্চের মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে সেই রকেটে ত্রুটি ধরা পড়ার কারণে মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয় তাঁরা।জানা গেছে, রকেটের হাইড্রোলিক সিস্টেমে কিছু গন্ডগোল হয়েছে, যার জন্য রকেট লঞ্চ করা যায়নি।ভিতরে থাকা চারজন মহাকাশচারীকেও সুরক্ষিতভাবে বের করে আনা হয়েছে।
গত বছর বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে ১০ দিনের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন সুনীতারা।কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আর ফেরা হয়নি।পরে এলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের ক্রিউ-১০ মিশনের সাহায্যে তাঁদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নাসা অনেক আগেই স্পেস-এক্সের সঙ্গে কাজ করছিল।তবে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এলন মাস্কের সাহায্য চেয়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে ৪টে নাগাদ স্পেস এক্স ও নাসা বিবৃতি দিয়ে জানায়, কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওড়ার কথা ছিল ফ্যালকন রকেট ৯-এর।কিন্তু রকেট লঞ্চপ্যাডের এক ত্রুটির কারণে এই মিশন বাতিল করা হয়েছে।মহাকাশযানটি উড়ান ভরার ঠিক ঘণ্টা চারেক আগেই হাইড্রলিক সিস্টেমে একটি সমস্যা নজরে আসে।বিপদ এড়াতে তড়িঘড়ি মিশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে সুনীতা ও বুচকে থেকে ফেরাতে কবে মহাকাশযানটি উড়বে তা জানানো হয়নি বিবৃতিতে।উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে স্পেস এক্সের রকেটে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস, বুচ উইলমোর।তাঁদের ফেরার কথা ছিল জুনে।কিন্তু যান্ত্রিক রকেটে ত্রুটির কারণে তাঁদের ফেরা বিলম্বিত হয়।চলতি বছরের মার্চে পৃথিবীর মাটিতে তাঁরা পা রাখতে পারবেন বলে জানায় নাসা।কিন্তু ফের আটকে গেল দুই নভোচরের পৃথিবীতে ফেরা।আরও কতদিন তাঁদের মহাকাশে বন্দিদশা কাটাতে হবে, এর উত্তর অধরা।
