দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আহিরীটোলা ট্রলি কান্ডের রেষ এখনো কাটেনি এরই মধ্যে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উদ্ধার হল একটি ট্রলি ব্যাগ।তা খুলতেই সেলোটেপ আটকানো একটি বস্তা নজরে আসে।সেটি খুলতেই উদ্ধার হল এক ব্যবসায়ীর মৃতদেহ।পাশাপাশি, ট্রলির মধ্যে মেলে নগদ ৬৫ হাজার টাকা এবং রক্তমাখা অস্ত্রও।ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল শোরগোল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে।রাতেই ঘটনাস্থলে যান বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (ঘোলা) তনয় চট্টোপাধ্যায়।ইতিমধ্যেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে।অন্যজন পালানোর চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মুক্তারামবাবু স্ট্রিট এলাকা থেকে পাকড়াও করে পুলিশ।জানা যাচ্ছে, ক্যাব চালকের বুদ্ধির জোরেই লাশ পাচারের আগে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে মূলত টাকার বচসার নেপথ্যেই এই খুন।তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে নাগেরবাজার থেকে দু’জন অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে।তাঁদের সঙ্গে ছিল ট্রলি।মুড়াগাছা পেরিয়ে ঘোলা মহিষপোতার কাছে কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়েতে অন্ধকার জায়গায় গাড়িটি দাঁড় করাতে বলেন যাত্রীরা।তখন ঘড়ির কাঁটায় আনুমানিক রাত ১২টা।আচমকা গাড়ি দাঁড় করানোয় সন্দেহ হয় চালকের।রাহুল অধিকারী নামে ক্যাব চালক দাঁড়ানোর কারণ জিজ্ঞাসা করেন।পাশাপাশি ডিকিতে রাখা ট্রলি কেন ভারী তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।তখনই শুরু হয় বচসা।সেই সময় ঘোলা থানার পুলিশ ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন।বাকবিতণ্ডা দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন তাঁরা।কারণ জিজ্ঞাসা করতেই একজন যাত্রী চম্পট দেয়।তখনই অপর যাত্রীকে আটক করে পুলিশ।খুনিদের পরিকল্পনা ছিল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কাছে কোনও একটি নির্জন জায়গায় ট্রলিটি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার।তবে অ্যাপ ক্যাবের চালকের জন্য তাঁদের ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।জানা গিয়েছে, মৃত ভাগারাম রাজস্থানের বাসিন্দা।বড়বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন তিনি।তিনি থাকতেন গিরিশ পার্ক এলাকায়।ব্যবসায়িক সূত্রে তাঁর পরিচয় কৃশপাল এবং করণ সিংহের সঙ্গে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন ভাগারাম।কিন্তু ওই টাকা ফেরত দিতে তিনি টালবাহানা করছিলেন।তারই হেস্তনেস্ত করতে মঙ্গলবার গিরিশ পার্ক এলাকায় ভাগারামের কাছে যান কৃশপাল ও করণ।সেখানে কফিতে বিষ মিশিয়ে ভাগারামকে খাওয়ান তাঁরা। ভাগারাম কফি খেয়ে অচৈতন্য হয়ে গেলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।তার পর গলার নলিও কাটা হয়।এর পর নীল রঙের একটি ট্রলি ব্যাগে ভাগারামের দেহ ভরে প্রথমে অভিযুক্তেরা চলে যান দমদম নাগেরবাজার এলাকায়।রাত ৯টা নাগাদ অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে দেহ তুলে নদিয়ার দিকে পাড়ি দেন তাঁরা।
