দিন দর্পণ, কলকাতাঃ বেসরকারি স্কুলগুলিতে মাত্রাতিরিক্ত ফি বাড়ানোয় নাজেহাল অবস্থা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের। লাগামহীনভাবে ফি বৃদ্ধিতে অভিযোগ উঠেছে বহুবার।সন্তানদের শিক্ষাক্ষেত্রে যাত কোনও অসুবিধা না হয় সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যান অভিভাবকেরা।যার চাপ সামলাতে পকেটে টান পড়ে মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের।এবার এই লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি রুখতে নিয়ন্ত্রণের ভাবনা রাজ্য সরকারের।বেসরকারি স্কুলের ব্যয় বৃদ্ধি ইস্যুতে নতুন কমিশন গঠন হবে।বিধানসভায় এমনটাই জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।শীঘ্রই বিধানসভায় এই নিয়ে একটি বিল আনা হবে বলেও অবগত করেছেন তিনি।
সোমবার থেকে বিধানসভায় দ্বিতীয় ভাগের অধিবেশন শুরু হয়েছে।যা চলবে ২০ তারিখ পর্যন্ত।মঙ্গলবার অধিবেশন চলাকালীন বিজেপির এক বিধায়ক বেসরকারি স্কুলগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানতে চান।তার জবাব দিতে গিয়ে ব্রাত্য বসু জানান, স্কুলের ফি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের উপর চাপ থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ আসছে সরকারের কাছেও।বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা ভেবেছেন।আগামী দিনে সরকার বেসরকারি স্কুলের ফি বৃদ্ধি রুখতে একটি বিল আনতে চলেছে, তা জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু।বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রাত্যর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান।স্বাস্থ্য কমিশনের ধাঁচে বেসরকারি স্কুলগুলির ফি নিয়ন্ত্রণে তৈরি হবে একটি কমিশন।উচ্চহারে ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে কমিশনের মাধ্যমে।যদিও এই প্রথম নয়।এর আগে, ২০২৩ সালে অনুমোদনক্রমে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট স্কুল রেগুলেটরি কমিশন’ তৈরির তোড়জোড় করেছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা।
এই কমিশনে ১১ সদস্যের থাকার কথা।এঁরা হলেন স্কুল শিক্ষা কমিশনার, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চশিক্ষা সংসদের সভাপতি, শিক্ষামন্ত্রী মনোনীত দু’জন শিক্ষাবিদ।এছাড়া সিবিএসই এবং আইসিএসই বোর্ডের প্রতিনিধিদেরও থাকার কথা এই কমিশনে।তবে গত ২ বছরে সেই কাজ এগোয়নি।শেষবার যখন কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী সে সময়ে বেসরকারি স্কুলগুলি যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করার লক্ষ্যে ব্যবসা চালাতে না পারে, এই সংক্রান্ত একটি বিলও সরকার আনতে চলেছে বলে জানান।একই সঙ্গে ব্রাত্য বলেন, বাংলা মাধ্যম স্কুলের দিকে ঝোঁক কমে যাচ্ছে অভিভাবকদের।সবাই ইংলিশ মিডিয়ামে ঝুঁকছে।সেই চাহিদাবৃদ্ধির কারণেও ফি নিয়ে এত অশান্তি বলে দাবি করেন তিনি।কিন্তু সে সময়ে কোনও এমন কমিশন গঠন করা হয়নি।এখন ফের একবার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিল সরকার।
