কলকাতার গঙ্গার জলে বাড়ছে লবণের মাত্রা


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতা সহ জেলার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটের জলে বাড়ছে লবণের পরিমাণ।জলে লবণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।ভবিষ্যতে এভাবেই গঙ্গার জলে লবণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে কলকাতা পুরসভার জলশোধনাগার প্ল্যান্টগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এমনটাই আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

ফিউচার ফর নেচার ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থার উদ্যোগে গঙ্গার ঘাটের জল ও জলজ প্রাণীদের নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে।এই সমীক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী।এই সমীক্ষার প্রথম ধাপের এই সমীক্ষায় কলকাতা থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত ঘাটগুলির জল পরীক্ষায় ব্যাপক মাত্রায় লবণাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।সাধারণত নদীর জলে ১০০ পিপিটি (পার্টস পার ট্রিলিয়ন) স্যালিনিটি বা লবণাক্ত থাকে।এটা স্বাভাবিক মাত্রা।এখানে ১৫০ পিপিটি পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়।সেখানে গঙ্গার ঘাটের জলে লবণের মাত্রা কোথাও ২০০ পিপিটি, কোথাও ২৮০।এটা মাত্রাতিরিক্ত।তাঁর বক্তব্য, জলে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্রুত করতে গিয়ে পুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টগুলিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব শহরবাসীর ওপর পড়বে।জল সংকট দেখা দিতে পারে।

তবে এখনই ভয় পাওয়ার মতো সময় আসেনি, মত সংশ্লিষ্ট বিভাগের।শহরে একটা বড় অংশের পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হয় পলতা শোধনাগার থেকে।এ ছাড়া গার্ডেনরিচ, ওয়াটগঞ্জ, জোড়াবাগান ও ধাপার জয় হিন্দ প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ করা হয়।পুর-জল সরবরাহ বিভাগের এক আধিকারিক জানান, গঙ্গার জলে লবণাক্ততা যে বাড়ছে না তা বলব না।এতে অবশ্য প্ল্যান্টে কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা এখনই দেখছি না।সেখানে উন্নতমানের মেশিনও রয়েছে।এক্ষেত্রে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বিশ্ব উষ্ণায়নকে দায়ী করছেন।পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কথায়, বিশ্ব উষ্ণায়নে প্রতি বছরে ২৬৭ বিলিয়ন টন হিমবাহ গলছে।এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে প্রায় ০.৭৪ মিলিমিটার করে বাড়ছে।সমুদ্রের নোনা জল নদীতে এসে মিশছে।যে কারণে কলকাতায় গঙ্গার পাড়েও এখন ম্যানগ্রোভ গজিয়ে উঠছে।জলজ প্রাণীর ওপরও প্রভাব পড়বে।এখন যেমন ফরাক্কায় কুমির ঢুকে পড়ছে।অদূর ভবিষ্যতে কলকাতার গঙ্গায়ও কুমির ঘুরতে দেখা গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *