দিন দর্পণ, হাওড়াঃ ২০২৩ সালের স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতের সবচেয়ে নোংরা শহর হল হাওড়া। এবার সে ‘নোংরা’ হাওড়াকে পুরোপুরি জঞ্জালমুক্ত করতে মাত্র এক মাস সময় বেঁধে দিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল।গঙ্গার পাড় ঘেঁষা এই ৬০০ বছরের পুরানো প্রাচীন শহরকে পুরোপুরি জঞ্জালমুক্ত করে ছবি সহ রিপোর্ট জমা দিতেও নির্দেশ ট্রাইবুনালের।
তাঁদের অভিযোগ, হাওড়ায় যত্রতত্র জঞ্জাল পড়ে থাকতে দেখা যায়।জঞ্জালের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে একপ্রকার বাধ্য হাওড়ার বাসিন্দারা।এই বিষয় তুলে ধরে একাধিক ছবি প্রমাণ হিসেবে দিয়ে ট্রাইবুনালে মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত।তাঁর মামলায় বলা হয়, হাওড়ার খোলা নিকাশিগুলিতে প্রতিদিন জঞ্জাল ফেলা হয়।যার ফলে ড্রেনের স্বাভাবিক নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।যার ফলস্বরূপ প্রতি বছর বর্ষার সময় রাস্তায় জল জমতে দেখা যায়।যার কারণে মানুষকে নরকযন্ত্রণা পোহাতে হয়।এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি প্রমাণস্বরূপ পেশ করে সুভাষবাবু মামলার সওয়ালে দাবি করেন, বিশেষত সান্ধ্যা বাজার, পঞ্চাননতলা রোড, বেলিলিয়াস লেন পয়েন্ট, গোরাবাজার, নিত্যধন মুখার্জি রোড, জে রোড, বেলগাছিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ড, কাজিপাড়া থেকে নবান্ন এলাকা, চ্যাটার্জ্জি হাট বাজার ও শিবপুর বাজারের মত এলাকায় খোলা জায়গায় জঞ্জাল ফেলার জেরে বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এই অভিযোগ পাওয়ার পর বিচারপতি অমিত স্থালেকর ও বিশেষজ্ঞ সদস্য অরুণকুমার বর্মা পুরসভা এবং নগরোন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেন হাওড়ার জেলাশাসককে।তারপর রিপোর্ট জমা দিতে বলেন। বৈঠকে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গ্রিন ট্রাইবুনালে রিপোর্ট জমা করে হাওড়াকে জঞ্জালমুক্ত করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও জানায়। ট্রাইবুনাল জানায়, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস ২০১৬ অনুযায়ী, হাওড়া পুরসভার তরফে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা রূপায়িত হয়নি।এরপরই পুর কমিশনারকে বেঞ্চের নির্দেশ, এক মাসে হাওড়া শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে হবে।আর ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ছবি সহ রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
দেশের ‘নোংরা’শহর হাওড়া!হাওড়াকে জঞ্জালমুক্ত করতে একমাস সময় দিল গ্রিন ট্রাইবুনাল
