দিন দর্পণ, কলকাতাঃ রাতের শহরে এখনো মেয়েরা কতটা সুরক্ষিত তা নিয়ে আরও একবার প্রশ্নের মুখে ফেল দিল দুর্গাপুর পানাগড় এলাকার ঘটনা।রবিবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের পানাগাড়ের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল চন্দননগরের বাসিন্দা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মীর।আহত হন গাড়িতে থাকা আরও দুজন।কাঁকসার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বুদবুদ থানা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে তেল ভরানোর পর থেকে পানাগড়ের কয়েকজন মদ্যপ যুবক একটি চারচাকা গাড়িতে করে যুবতীকে কটূক্তি করতে করতে পানাগড় পর্যন্ত ধাওয়া করে।শুধু ধাওয়া করা নয়, তরুণীকে লক্ষ্য করে লাগাতার নোংরা অঙ্গভঙ্গি, কটূক্তি তো বটেই দু’-দুবার সুতন্দ্রার গাড়িতে ধাক্কাও মারে তারা।মদ্যপদের হাত থেকে বাঁচতেই তরুণীর গাড়ি চলে যায় রাস্তার উল্টো লেনে।সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি দোকানে ধাক্কা মারে, তারপর একটি শৌচালয়ে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়।তাতেই মৃত্যু হয় ওই সুতন্দ্রার।বাকি চারজন আহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কাঁকসা থানার পুলিশ।পুলিশ দু’টি গাড়িকে আটক করার পাশাপশি, দেহ উদ্ধার করে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়, বয়স ২৭।হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা সুতন্দ্রা এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী ছিলেন।রবিবার রাতে চন্দননগর থেকে একটি গাড়িতে সুতন্দ্রা-সহ পাঁচজন বিহারের গয়ার দিকে রওনা দেন।সেখানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের।মাঝরাতে পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদের ১৯ নং জাতীয় সড়কের পাশে একটি পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল ভরানোর জন্য থামে গাড়িটি।তেল ভরার পর আবার গাড়িটি জাতীয় সড়ক ধরে পানাগড়ের দিকে চলতে শুরু করে।এমন সময়েই বিপত্তি ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন।জাতীয় সড়কে মহিলার হেনস্থা ও মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিল এ রাজ্যে।
