MANIPUR VIOLANCE- বছরের প্রথম দিনেই ফের উত্তপ্ত মণিপুর


বাবন ধুঁয়া, ০২.০১.২৪ সময়ঃ ৬.১৬

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

নতুন বছরের প্রথম দিনে আবার উত্তপ্ত মণিপুর। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে উপত্যকার থৌবল জেলায় গোষ্ঠীসংঘর্ষে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে রাজধানী ইম্ফল-সহ উপত্যকার পাঁচ জেলায় কার্ফু জারি করেছে মণিপুর সরকার। থৌবল ছাড়াও তালিকায় রয়েছে, ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর এবং কাকচিং।

স্থানীয় সূত্রের খবর, নিহত তিন ব্যক্তিকে একটি গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লিলং চিংঝাও এলাকায় গাড়ি আটকায় বিপক্ষ শিবিবের দুÜৃñতীরা। তাদের এবং গাড়ির চালককে গুলি করে খুন করার পাশাপাশি গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর উপত্যকার পাশাপাশি লাগোয়া পাহাড়ি অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত হন আরও কয়েক জন। এই পরিস্থিতিতে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা এন বীরেন সিং যুযুধান দু’পক্ষের কাছে সংযত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ আমরা তাদের (জঙ্গিদের) দমনের চেষ্টা করছি। বিস্ত+ণ এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে।’ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়ে, বীরেন সিং আরও জানান, ‘ এই ঘটনায় মায়ানমার থেকে ভাড়াটে দুÜৃñতীদের যোগ রয়েছে বলে আমাদের ধারনা।’

যদিও লিলংয়ের বাসিন্দাদের শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিং। একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ‘এই হামলার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জাতি সংঘর্ষ চললেও এই লিলংয়ে তার প্রভাব সেরকমভাবে পড়েনি। মেতেই পাঙ্গাল অধ্যুষিত অঞ্চলে হিংসার খবর পেয়েই রাতের বেলা কারফিউ শুরু করেছে মণিপুর প্রশাসন। দিনের বেলাও কারফিউ বলবৎ করার পরিকল্পনা চলছে প্রশাসনের অন্দরে।

২০২২ সালের ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর বা এটিএসইউএম-এর কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্যে। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই জনজাতি সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই মণিপুরের আদি বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকি, জো-সহ কয়েকটি তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের (যাদের অধিকাংশই খ্রিস্টান) সংঘাতের সূচনা হয়েছিল।

অশান্তি ঠেকাতে গত ৬ মে মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। নামানো হয় সেনা এবং অসম রাইফেলস বাহিনীকে। সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির ভার দেওয়া হয় সিআরপিএফের প্রাক্তন প্রধান কুলদীপ সিংহকে। ত¥ার অধীনে এডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স) আশুতোষ সিং-কে সমগ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপারেশনাল কমান্ডার-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই রাজ্যে হিংসা থামেনি। এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় দু’শো। ঘরছাড়া ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

উল্লেখ্য, গত বছর মণিপুরে দুই মহিলাকে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় প্যারেডের দৃশ্যের ক্লিপ ভাইরাল হয়। সমালোচনার ঢেউ আছড়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনার নিন্দা করেন। বিরোধীরা এন বীরেন সিংয়ের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়। মণিপুর ক্রমেই উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দিক থেকেও উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়। নতুন বছরের শুরুতে ফের মণিপুর উত্তপ্ত হওয়ায় আশঙ্কার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *