দিন দর্পণ, কলকাতাঃ শান্তিনিকেতনে ভেঙে ফেলা হচ্ছে প্রখ্যাত শিল্পী অবনীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যময় বাড়ি।স্বাবাবিক ভাবেই ক্ষোভে ও আক্ষেপে ভেঙে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আক্ষেপের সুর বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকদের মধ্যে।পূর্বপল্লীর শেষপ্রান্তে অবনপল্লীতে কিংবদন্তি শিল্পীর এই ‘আবাস’ নামক বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।সেখানে তৈরি হবে বহুতল।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় আচার্য ছিলেন।তাঁর ছেলে অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে একটি বাড়ি করেছিলেন।সেই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।তাঁর নামানুসারেই শান্তিনিকেতনের ওই জায়গার নাম হয় ‘অবনপল্লী’।বাড়িটি তৈরি করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর।জীবনের বেশ কিছুদিন এই বাড়িতে কাটিয়েছিলেন অবনীন্দ্রনাথ।পরে তাঁর নাতি অমিতেন্দ্রনাথ ঠাকুর থাকতেন এখানে।বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ি ভাঙার কাজ চলছে।সামনেই রয়েছে সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত বৌদ্ধ পন্ডিত সুনিতি কুমার পাঠকের বাড়ি।শান্তিনিকেতনে বৌদ্ধ, পালি ভাষার বিভাগ গঠনে যাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।বিতর্ক শুরু হয়েছে শান্তিনিকেতন জুড়ে।প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি ভেঙে ফেলার অনুমতি মেলা সম্ভব? শুধু তাই নয়, কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় গাছও।
কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থা বহুতল নির্মাণের জন্যই ওই জায়গাটি ক্রয় করেছেন বলেই জানা যায়।যদিও কারা এই ঐতিহ্যবাহী জায়গা ও বাড়িটি ক্রয় করেছেন তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধান পর্না ঘোষ জানান,এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি।বহুতল নির্মাণের জন্যও কোনও অনুমতিই দেওয়া হয়নি।তবে আমরা চাই, শান্তিনিকেতনে স্মৃতি বিজড়িত জায়গা ও বাড়িগুলোর ঐতিহ্য বজায় থাকুক।ভবিষ্যতে অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত একজন কিংবদন্তি শিল্পীর যে বাসস্থান, সেটাও আমরা বজায় রাখতে পারলাম না।ভেঙে ফেলা হচ্ছে।মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজো ভাই গিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।তাঁর ছেলে গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্ত্রী সৌদামিনী ঠাকুরের ছোট ছেলে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর যোগ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে, কথোপকথন, শিল্পচর্চা প্রভৃতি নিয়ে বহু লেখনী, ইতিহাস রয়েছে।প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখকও ছিলেন।চিত্রকলার মধ্য দিয়ে কাহিনী বর্ণিত শকুন্তলা, রাজকাহিনী, ক্ষীরের পুতুল, ভারত শিল্প, নালক প্রভৃতি কালজয়ী বইয়ের স্রষ্টা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
