গোটা পরিবারকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ মাধ্যমে প্রতারণা


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ আবারও ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা সামনে উঠে এসেছে।এবারে একই পরিবারের সমস্ত সদস্যদের বন্দী করে রাখল প্রতারকরা।পাঁচ ঘণ্টা ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে রাখল সাইবার অপরাধীরা।শুধুমাত্র তাই নয়, ওই পরিবারের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়।সোমবার নয়ডা পুলিশ জানতে পারে এক পরিবারের এক কোটি টাকারও বেশি লুট করে নিয়েছে সাইবার অপরাধীরা।একটি অভিযোগও জমা পড়ে।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।সরকারি আধিকারিক সেজে ওই পরিবারের কাছে ফোন এসেছিল।তারপর ৫ দিন ধরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল তাঁদের।চন্দ্রভান পালিওয়াল নামে এক ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল।তাঁকে বলা হয় টেলিকম রেগুলেটরি অথোরিটিতে ফোন করতে ।পাশাপাশি হুমকি দেন যে, তাঁর সিমকার্ড ব্লক করে দেওয়া হবে।এও দাবি করা হয়, একটি প্রতারণার মামলায় মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্ত করছে এবং তাঁর এই ফোন নম্বরটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

ওই ব্যক্তির দাবি, এই ফোনের ঠিক ১০ মিনিটের মধ্যে এক ‘আইপিএস’অফিসার ভিডিও কল করেন তাঁকে।তারপর তাঁকে বলা হয়,পালিওয়াল বলে ব্যক্তির নামে  নাকি ২৪টি মামলা রয়েছে, আর্থিক প্রতারণার মামলাতেও তাঁর আছে।এরই সঙ্গে এও দাবি করা হয়, সিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে।পালিওয়াল জানিয়েছেন, একইরকম ভাবে পরপর ভিডিও কল করা হয়েছিল তাঁর মেয়ে এবং স্ত্রীকেও।টানা ৫ দিন তাঁরা ফোন রাখতেই পারেননি।এর মাঝেই শুধুমাত্র গ্রেফতারির হুমকি দিয়ে তাঁদের থেকে ১ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক কোটি টাকা না দেন, তা হলে পুরো পরিবারকে গ্রেফতার করা হবে।গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।এই কথা শুনে চন্দ্রভান দিশাহারা হয়ে পড়েন।তাঁর অভিযোগ, গ্রেফতারি থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজনীয় টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়।সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করেন চন্দ্রভান।পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কয়েক দফায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *