পরকীয়ার জেরে নাবালকের হাতে খুন কলকাতার এক তরুণী


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।কলকাতা ইএম বাইপাসেরধারে এক রেঁস্তরার সামনে এক মদিলাকে কুপিয়ে খুন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইপাস ধাবার কাছে সিগন্যালে প্রথম গাড়িটি থামতেই পিছনের গাড়িটি এসে পথ আটকায়।ওই তরুণীকে প্রথমে মারধর করতে করতে গাড়ি থেকে নামানো হয়।ওই অবস্থায় এক পায়ে জুতো পরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে পালিয়ে আসছিলেন তরুণী।তখনই ফের পেছন থেকে এক নাবালক এসে তাঁকে ধাওয়া করে প্রথমে হাতে কোপ মারে।তারপরেই তরুণীর গলার নলি কেটে দেয়।তরুণী ওই অবস্থায় কোনমতে একটি ওষুধের দোকানের দিকে যাওয়া শুরু করে।তখনই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ট্যাক্সি করে তড়িঘড়ি এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যান।রাত প্রায় দুটোর সময় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরাই হামলাকারী নাবালক ও তাঁর মাকে পাকড়াও করেন।পরবর্তীতে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ এলে ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেড়েই এই ঘটনা।মনে করা হচ্ছে, নাবালকের বাবার সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক ছিল এবং সেই কারণেই এই হামলা।এই ঘটনার সময় গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন নাবালকের মা শাহজাদি ফারুক।তবে ওই তরুণী নাবালকের বাবার সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন নাকি তাঁকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ ওই নাবালকের বাবাকে খুঁজছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত তরুণী এবং নাবালকের বাবা ৮.৪৫ নাগাদ বাইপাস ধাবার কাছে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন।চারচাকা গাড়ি নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন তারা।তাঁদের অনুসরণ করতে করতে পিছনে আসে আরও একটি গাড়ি।ওই গাড়িতে ছিল নাবালক, তাঁর মা ও এক ভাই।বাইপাসে পৌঁছে আচমকা তরুণীর উপর তাঁরা চড়াও হন।তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় নাবালকই।গলাতেও কোপ মারা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণের সময়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তরুণী।কিন্তু তাঁকে ধরে রাখেন নাবালকে ভাই।সেই সময়ে তাঁর শরীরে একাধিক বার কোপ মারে ফারুকের পুত্র।

গাড়ি ভাড়া দেওয়ার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নাবালকের বাবা।ফলে গাড়ি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও জানা ছিল।জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে বাবার গাড়িকে অনুসরণ করতে তাই অসুবিধা হয়নি নাবালকের।বাবার পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতেই সে তরুণীকে খুন করে, অনুমান পুলিশের।তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন তার মা এবং দাদা। তারা তরুণীকে আক্রমণ করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নাবালকের বাবা।তাঁরা যে গাড়িতে এসেছিলেন, তার চালকও সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।আপাতত তিন অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজতে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *