দিন দর্পণ, মুম্বাইঃ বিরল স্নায়ুরোগ গুলেন মারি সিনড্রোমকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মহারাষ্ট্র জুড়ে।ইতিমধ্যেই বহু সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হয়েছে এই রোগে।কিন্তু রবিবার এই আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুণে পুলিশ।সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে গুলেন বারি আক্রান্ত ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।পুণেতে এসেই তিনি গুলেন বারিতে আক্রান্ত হন পাশাপাশি, ডায়েরিয়াতে ভুগছিলেন এবং কাশি-সর্দিও ছিল।অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে মহারাষ্ট্রে অন্তত ১০১ জন গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত।তাঁদের মধ্যে ৬৮ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন মহিলা।আক্রান্তদের ১৬ জনকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে।পুণে এবং পিম্পরি-চিনচড়-পাশাপাশি অবস্থিত এই দুই কর্পোরেশন এলাকাতেই ৯৫ জন গুলেন বারি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে।সাধারণত, ভয়াবহ কোনও সংক্রামক ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধলে স্নায়ুর এই সমস্যাটি দেখা যায়।সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে এই রোগটির মাধ্যমে প্রাণহানিও ঘটতে পারে।
এই রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় কিছুটা কমাতে সতর্কতামূলক প্রচার শুরু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ঘোষণা করেছেন, সরকারি হাসপাতালে এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হবে।এমনিতে এই রোগের চিকিৎসা বেশ খরচ সাপেক্ষ।রোগীদের এক ধরনের ইনজেকশন প্রয়োজন হয় যার একেকটির দাম ২০ হাজার টাকা করে।
গুলেন বারি সিনড্রোমের মূল লক্ষণ হল অসাড়তা। শুরুর দিকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ব্যথাও থাকতে পারে।পরবর্তীকালে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দুর্বল হতে থাকে।বিশেষ করা হাত-পায়ের দুর্বলতা এক্ষেত্রে লক্ষণীয়।আক্রান্ত হওয়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে এই দুর্বলতা প্রকট হয়।অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অসাড় হয়ে যায়।ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘাড়ের পেশি।চিকিৎসা না হলে রোগীর হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হয়।কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে যাবার কারণে মুখের পেশি দুর্বল হয়, খাবার গিলতে অসুবিধা হয়, চোখের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে সমস্যা দেখা যায় দৃষ্টিশক্তিরও।এছাড়াও শরীরে বিভিন্ন জায়গা যেমন ঘাড়, পিঠ, কোমরে ব্যথা থাকতে পারে।
