সরকারী পশু হাসপাতালে অব্যবস্থায় সমস্যায় পশুপ্রেমীরা


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ অসুস্থ পশুদের জন্য বেলগাছিয়ার প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্লিনিক রয়েছে।বেলগছিয়ার হাসপাতালের পুরনো ভবন থেকে নতুন ভবন প্রায় বছর দেড়েক আগে চালু হয়েছে।এবার এই সরকারী পশু হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।শহর ও শহরতলি মিলিয়ে বেলগাছিয়ার প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসই একমাত্র সরকারি পশু চিকিৎসালয়।দোতলা নয়া ভবনে ঘরের অভাব নেই।একাধিক পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা জানা যায়।

সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেল, বোর্ডে লেখা আছে, সেখানে পশুদের চিকিৎসায় এক্স-রে, ইসিজি এবং ইউএসজি-র ব্যবস্থা রয়েছে।কিন্তু, এক্সরে রোজ হলেও ইসিজি এবং ইউএসজি-র ব্যবস্থা মাত্র দুদিনের।এই দু’দিন বাদে অন্য কোনও দিন অসুস্থ পোষ্যকে সেখানে নিয়ে গেলেও ইসিজি এবং ইউএসজি না করিয়েই ফিরিয়ে আনতে হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ঝকঝকে নতুন ক্লিনিক গড়া হলেও এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এক্স-রে করা হয়।ডিজিটাল যন্ত্রে এক্স-রে চালু না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশু চিকিৎসকেরা।অভিযোগ, ম্যানুয়াল এক্স-রে যন্ত্রটিও সব সময়ে ঠিক মতো কাজ করে না।ওই ক্যাম্পাসের বাইরেই বেসরকারি পরীক্ষাগার গড়ে উঠেছে।ক্লিনিকের চিকিৎসকদের একাংশ সেখান থেকে রক্ত পরীক্ষা এবং এক্স-রে করাতে পাঠিয়ে দেন।রোজ পোষ্যদের ভিড় বাড়ছে।অথচ, ডাক্তারের সংখ্যা কম।মেডিসিন ও সার্জারির মাত্র চার জন চিকিৎসককে দিয়ে এই ভিড় সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।চিকিৎসকের সংখ্যা না বাড়ালে পোষ্যদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ ভাবেই বসে থাকতে হবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্যামসুন্দর দানাকে ক্লিনিকের অব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,ক্লিনিকের জন্য ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র কেনার তোড়জোড় চলছে।প্রায় ন’লক্ষ টাকা দামের ওই যন্ত্র শীঘ্রই চলে আসবে।তবে অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোষ্য নিয়ে এখানে এলে বিনা চিকিৎসায় কাউকে ফেরানো হয় না।পশুদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করানোর কথা অস্বীকার করেছেন উপাচার্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *