দিন দর্পণ, দক্ষিণ২৪পরগণাঃ প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে মানুষের উদ্দীপনা থাকে প্রবল। উপস্থিত হন কয়েক হাজার মানুষ।যা একত্রিত হয়েই অনুষ্ঠিত হয় অন্য মহোৎসব।পৌষ সংক্রান্তির ভোর থেকেই গঙ্গাসাগরে মানুষের ঢল চোখে পড়ার মতো।গঙ্গাসাগরে পূণ্যার্থীরা হাজির হয়ে স্নান সারছেন এই বিশেষ দিনে।ফলে পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি জারি করেছে প্রশাসন।গঙ্গাসাগরে যেমন চলছে পূণ্যাস্নানের পাশাপাশি মকর সংক্রান্তিতে কুম্ভ মেলায় অমৃত স্নানও জারি রয়েছে।অমৃত স্নান উপলক্ষ্যে কুম্ভ মেলায় কয়েক কোটি পূণ্যার্থী হাজির হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে পূণ্যস্নান।বুধবার সকাল পর্যন্ত চালু থাকবে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের সময়সীমা।কিন্তু সেই সময় শুরুর আগে থেকেই সাগর স্নানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীরা এসে হাজির হয়েছে গঙ্গাবক্ষে।সংক্রান্তি তিথির ভিড় এড়াতেই তাঁরা আগে থেকে পূণ্যস্নান সেরে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন।উত্তরপ্রদেশ জুড়ে যেমন মহাকুম্ভ মেলাকে নিয়ে জনজোয়ার দেখা গিয়েছে, তেমনই উত্তেজনা দেখা গেল গঙ্গাসাগর মেলাতেও।তবে এখনও পর্যন্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।রবিবার মৃত্যু হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা অবদেশ তিওয়ারির।সোমবার আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে এই বিপুল পরিমাণ মানুষকে সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা জারি রয়েছে।মোট ১৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।প্রচুর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।মেগা কন্ট্রোল রুম থেকে কলকাতার আউটট্রাম ঘাট,গঙ্গাসাগর মেলা পর্যন্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।আজ ভোরবেলা থেকেই শুরু হয়েছে পূণ্যস্নান।প্রশাসন সূত্রে খবর. পয়লা জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪২ লক্ষ মানুষ সাগরে এসেছেন।
পুণ্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে মেলা কমিটির তরফে একাধিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।মেলার সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স, ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীর বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে।এমনকি মেলাপ্রাঙ্গণে বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া, ইংরেজি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি ভাষায় ঘোষণার ব্যবস্থাও আছে।সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে দু’হাজারের বেশি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এছাড়াও জলপথে ১০০টি লঞ্চ, ৩২টি ভেসেল, ন’টি বার্জ আছে।এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় ১২টি অস্থায়ী জেটিও তৈরি করা হয়েছে।
এ বার গঙ্গাসাগরে স্নান করলে পুণ্যার্থীদের বিশেষ সার্টিফিকেট অর্থ্যাৎ শংসাপত্র দেওয়া হবে।এই শংসাপত্রের নামকরণ করা হয়েছে বন্ধন।সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় লেখা এই বিশেষ সার্টিফিকেট।পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে টয়লেট, পথনির্দেশিকা, পার্কিং, বাস, লঞ্চ, ফেরি পরিষেবা-সহ মেলা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।এমনকি বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ই-পরিচয়পত্রেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।সেখানে পুণ্যার্থীর সম্পর্কে সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকবে।
