দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশানুযায়ী জোরকদমে শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণ কাজ।ইতিমধ্যেই এবিষয়ে ব্যপক তৎপর রাজ্যের পূর্ত দফতর।এই নয়া সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৪কিমি ৭৫৭ মিটার।নিকটবর্তী রাস্তা বাদে মূল সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৩কিমি ১৯৮ মিটার।এই সেতু নির্মাণে মোট টাকা বরাদ্দ হবে ১৫০০ কোটি টাকা।এই সেতু তৈরিতে মোট সময়সীমা থাকছে ৪ বছর।এই সেতু তৈরির জন্য মুড়িগঙ্গার উভয় প্রান্তে মোট ১২.৯৭ একর জমি কেনা হয়েছে সরকারের তরফে।চার লেন বিশিষ্ট এই সেতুতে উভয় প্রান্তে থাকবে ফুটপাথ।
গঙ্গাসাগর সেতু নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধালাভ হবে,এমনকি সাগরদ্বীপের মানুষের আর্থিক উন্নতিও ঘটবে।এই ভাবনায় বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুড়ি গঙ্গার ওপর সেতু তৈরির বিষয় নিয়ে দরবার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনওরকম সহায়তা দেখায়নি বাংলার এই নয়া উদ্দ্যোগে।
এবার গঙ্গাসাগর সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একবার কথা হয়েছিল।বলেছিল টাকা দেবে।তার জন্য তিন চার বছর বসে ছিলাম।কিন্তু যখন টাকা দেবে না বুঝে গিয়েছি তখন আমরা নিজেরাই সেতু তৈরি করব।কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ইতিমধ্যেই ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করে টেন্ডার হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে।তিন চার বছর সময় লাগবে।টাকা আমাদের রাখা আছে।’
তেমনই প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলা চলাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী এসে উপস্থিত হন।সেক্ষেত্রে এই ব্রিজ তৈরি হলে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আর কোনও অসুবিধা থাকবে না।তাঁরা খুব সহজেই গঙ্গাসাগরের পূণ্যভূমিতে এসে পৌঁছে যাবেন।দুর্গম পরিস্থিতিতে নদী পার হয়ে পুণ্যার্থীদের আসতে হয় গঙ্গাসাগরে পুণ্যভূমিতে।কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ থেকে ভেসেল করে পুণ্যার্থীরা আসে গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে।কিন্তু নদীতে জোয়ার-ভাটা থাকার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়ে থাকে যাত্রীদের। যার ফলে বহু সমস্যার মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের।তবে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পরিকল্পনা করা হলেও কোনও ভাবেই তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।তবে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হতে চলায় উচ্ছ্বসিত সাগরবাসী।এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে সাগর আর বহু দূরে থাকবে না।চলে আসবে হাতের মুঠোয়।
