স্যালাইন বিভ্রাট! নিষিদ্ধ স্যালাইনে মৃত্যু প্রসুতির


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ গত শুক্রবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসুতি বিভাগে স্যালাইন দেওয়ার পর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।একের পর এক চার প্রসুতির আবস্থা খারাপ হতে শুরু করে।রোগীর পরিবারের অভিযোগ স্যালাইন দেওয়ার পর থেকেই অবস্থার পরিণতি খারাপ হতে শুরু করে।মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিষিদ্ধ স্যালাইন প্রয়োগে প্রসূতির মৃত্যু। মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পান পাঁচজন গর্ভবতী মহিলা। মারা যাওয়া মহিলা ছাড়াও, দুজন ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, একজন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে(সিসিইউ)এবং অন্যজন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে(আইসিইউ) রয়েছেন।এটি গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে যেহেতু মেয়াদোত্তীর্ণ রিঙ্গার ল্যাকটেড(আরএল)স্যালাইন পশ্চিম বঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড থেকে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে, যে কোম্পানিটি আগে কর্ণাটক সরকার এবং পরে পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা নিষিদ্ধ হয়েছিল।মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মেডিক্যাল র্বোড গঠন করে।

এরপরই গতকাল রবিবার তিন প্রসুতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।এদের মধ্যে দুইজনকে এসএসকেএমের সিসিইউ ১৩ নম্বর বেডে এবং ১৪ নম্বর বেডে আর এক জনকে সাধারণ বেডে রাখা হয়।এদের উপর বিশেষ নজরদারি করছেন চিকিৎসকরা।এই তিনজনতে গ্রিণ করিডোর করে নিয়ে আসা হয়।যাতে দ্রুত মেদিনীপুর থেকে আনা সম্ভব হয়।অ্যাম্বুলেন্সে লাইভ সার্পোট দিয়ে আনা হয়।

রবিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছায় ১৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল।তারা পুরো বিষয়টিকে খতিয়ে দেখেন।তাঁদের ধারণা প্রসুতি মৃত্যুর পিছনে শুধুমাত্র স্যালাইনের ভূমিকা নেই।এরই সঙ্গে আরও কিছুর ভূমিকা আছে বলে অনুমান।ড্রাগ টেস্টের রির্পোট না আসা পর্যন্ত তাঁরা নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারবেন না। 

রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেন ব্যবহার করা হল?মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু এবং সেইসঙ্গে তিন প্রসূতি আশঙ্কাজনক হওয়ার ঘটনায় এই প্রশ্ন তুলে এবার কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেন প্রধান বিচারপতি।সোমবার সেই মামলা দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী ও বিজয় সিংঘল নামে এক ব্যক্তি।বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে প্রথম মামলা হিসেবে শুনানি হওয়ার কথা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *