দিন দর্পণ,কলকাতাঃ জাল পাসপোর্ট চক্রের একের পর এক নতুন চমক।একজনকে গ্রেপ্তার করতেই হদিশ মিলেছে একাধিক অভিযুক্তের।তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা ছিল, এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকতে পারেন পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের ভেরিফাইং এবং একাধিক গ্রান্টিং অফিসাররা।সেই কারণে আগেই চিঠি দিয়ে রাজ্যের পাঁচ পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের ভেরিফাইং অফিসার ও গ্রান্টিং অফিসারদের নামের তালিকা চেয়েছিল লালবাজার।পরবর্তীতে স্ক্যানারে আসে দুই ডিভিশনের পাঁচ থানার ভেরিফিকেশন অফিসাররা অর্থাৎ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা।এ বার লুক আউট নোটিস জারি করতে চাইছে লালবাজার।সূত্রের খবর, এই চক্রের সদস্যেরা গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতীয় বলে দেখিয়ে ১২১টি পাসপোর্ট তৈরি করেছিল।যার মধ্যে ৭০টিরও বেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে গিয়েছিল আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের তরফে।বাকি প্রায় ৫০টি পাসপোর্ট তৈরির অপেক্ষায় ছিল, যা ইতিমধ্যে আটকে দেওয়া হয়েছে।
লালবাজারের তদন্তকারীদের দাবি, ৭০টিরও বেশি পাসপোর্ট বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীদের নামে তৈরি করা হয়েছিল।ওই অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।এর ফলে যেমন ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে কেউ নতুন করে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, তেমনই ওই পাসপোর্ট কার কার কাছে রয়েছে, তা সহজে চিহ্নিত করা যাবে বলে গোয়েন্দারা মনে করেছেন।এক আধিকারিক জানান, ওই পাসপোর্ট ব্যবহারীদের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।এর সাহায্যে ভুয়ো পাসপোর্টের অধিকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
লালবাজার সূত্রের খবর, আবেদন এবং তার সঙ্গে জমা দেওয়া নথির পুলিশি যাচাইয়ের পরে পাসপোর্ট দেয় আরপিও।তাদের দায়িত্ব আরপিও-এর কর্মীরা সঠিকভাবে পালন করছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখার কাজও শুরু হয়েছে।এর সঙ্গে পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য দেড় হাজার টাকা জমা দিতে হয়।জাল পাসপোর্ট তৈরিতে কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা এসেছিল, তাও চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।এই সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখে কারা সেটি ব্যবহার করেছে, তা জানার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
