বিহারে হদিশ মিলল বেআইনি অস্ত্র কারখানার


দিন দর্পণ, পাটনাঃ আবারও খোঁজ পাওয়া গেল বেআইনি অস্ত্র কারখানার।বিহারে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার হদিস পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স।কারখানায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির যন্ত্রপাতি।অভিযোগ, সেখানে গাড়ির যন্ত্রপাতির পরিবর্তে তৈরি করা হয় অস্ত্র।বিহার পুলিশের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের এই বিশেষ দল মধুবনী জেলার দোকানে যৌথ অভিযান চালানো হয়।তল্লাশি করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।এই কারখানায় ৭ এমএম পিস্তল তৈরি করা হত বলে খবর।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিহারে বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস পাওয়া গিয়েছিল।কলকাতা ও বিহারের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানার ঠিকানা পায়।এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়।ধৃতেরা হলেন ইশতেয়াক আলম, তাঁর ভাই ইফতেকার আলম এবং তাঁদের সহযোগী রাজকুমার চৌধুরী ওরফে বিরজু।পুলিশ জানিয়েছে, ইফতেকার ওই দোকানের মালিক।বিরজু অস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী।তাঁর নির্দেশেই চলত অস্ত্রের কারখানা।বিরজু বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা।অন্য দুই ধৃত মধুবনিরই বাসিন্দা।

জুলাইতে পাওয়া যেসমস্ত অস্ত্র গুলি পুলিশ উদ্ধার করেছিলেন সেগুলি হল ৭.৬৫ মিমি সেমিঅটোমেটিক ইম্প্রোভাইজড আগ্নেয়াস্ত্র, ৭.৬৫ মিমি লাইভ কার্টিজ, বিপুল সংখ্যক সেমিফিনশেড ইম্প্রোভাইজড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের অংশ যেমন পিস্তল বডি, পিস্তল স্লাইডার, পিস্তল গ্রিপ এবং পিস্তল ব্যারেল, একটি লেদ মেশিন, দুই মিলিং মেশিন, একটি ড্রিলিং মেশিন সহ আরও অনেক অস্ত্রশস্ত্র।একইসঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং সরঞ্জামও উদ্ধার করে পুলিশ।

এবারের অস্ত্র কারখানা থেকেও বহু অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।যেমন তালিকায় রয়েছে, ২৪টি ৭ এমএম পিস্তল, ২৪টি ৭ এমএম পিস্তল ব্যারেল, তিনটি ৭ এমএম পিস্তল স্লাইডার, একটি যন্ত্র, একটি মাইলিং যন্ত্র, দু’টি ড্রিলিং যন্ত্র, একটি পেষাই করার যন্ত্র, একটি ঢালাইয়ের যন্ত্র এবং কাঁচামাল।লালবাজার সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রাথমিকভাবে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, বিহারের মধুবনী থেকে এই সব বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাংলা, ওড়িশা-সহ একাধিক প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।এই ঘটনায় বিহারের খুটাউনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলার রুজু করেছে পুলিশ ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *