দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আবারও কলকাতায় শিশু পাচার চক্রের হদিশ।গত সোমবার ৬তারিখ নাগের বাজার এলাকায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।অভিযুক্ত দম্পতির পরিচয়তাঁরা নাগেরবাজার থানা এলাকার যশোর রোডের ধারে এক আবাসনের বাসিন্দা।ধৃত দম্পতির নাম বিজয় ও নেহা সাঁওতালিয়া।বিজয় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন।তাঁদের সাত বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে নেহা গর্ভবতী হন।তবে শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁর গর্ভপাত হয়।চিকিৎসকরা জানান, তিনি আর সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না।কিন্তু দম্পতির কন্যা সন্তানের অভিভাবক হওয়ার ইচ্ছা ছিল।সেই তাড়নায় শিশুপাচার চক্রের সদস্য জোৎস্না নামের এক মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন দম্পতি।তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পাচারকারীদের কাছ থেকে দুমাসের শিশুকন্যাকে কিনেছেন।তাঁদের থেকে শিশুকন্যাটি উদ্ধার হয়েছে।তাঁকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।দম্পতিকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
দম্পতি পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ করলেন কীভাবে?সিআইডি সূত্রে খবর,এদের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করেন বিশাল নামের এক যুবক।এই যুবক জোৎস্নাকে ধৃত দম্পতির সাথে যোগাযোগ করায়।গোয়েন্দারা আগেই জোৎস্নাকে গ্রেপ্তার করেছে।তবে বিশাল ও তার এক সঙ্গী জুলির খোঁজ করছে সিআইডি।সিআইডি গত বছর নভেম্বর মাসে সাঁতরাগাছি স্টেশনে থেকে এক শিশুকন্যা-সহ মানিক ও মুকুল হালদার নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।তাদের জেরা করেই প্রথমে শিশুপাচার চক্রের হদিশ পান তাঁরা।ওই শিশুটিকে পাটনা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসাছিল ওই দম্পতি।বিক্রি করার মতলব ছিল তাদের।দুজনকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোৎস্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।তাঁকে জেরা করেই নাগেরবাজারের এই দম্পতির খোঁজ পাওয়া যায়।সিআইজিকে জোৎস্না জানিয়েছে, নাগেরবাজারে দম্পতিকে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়।শিশুপাচারের সঙ্গে যুক্ত বিশাল ও জুলি নামে দুজনকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা।সিআইডির দাবি, তাদের গ্রেপ্তারের পরই জানা যাবে এই চক্র কতদূর ছড়িয়ে।এই দুজনের আগে বিশাল অনেক শিশুকে বিক্রি করেছে বলে দাবি রাজ্য গোয়েন্দাদের।
