দিন দর্পণ, ৭ জানুয়ারিঃ শীতের সকালে আতঙ্কে ঘুম ভাঙল শহরবাসীর।মঙ্গলবার সকালে ৬টা ৩৫ নাগাদ ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে ওঠে নেপাল তিব্বত সহ ভারতের একাংশ।পশ্চিমবঙ্গেরও একাধিক এলাকায় এই ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়া যায়।এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল, নেপালের গোকর্ণেশ্বরের কাছে লোবুচে থেকে ৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং তিব্বতের শিগাতসে থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটার গভীরে।ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭.১ ছিল।ভারতের একাধিক জায়গায় এই কম্পন অনুভব করা যায়।প্রথম কম্পন হয় ৬টা ৩৫ মিনিট নাগাদ এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।দ্বিতীয় কম্পনটি হয় ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ২মিনিটে। দ্বিতীয় কম্পনের তীব্রতা ৪.৭।দ্বিতীয় কম্পনের পাঁচ মিনিট পরে সকাল ৭টা ৭মিনিটে অনুভূত হয় তৃতীয় কম্পনটি।তৃতীয় কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৯।
এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বেজিং প্রশাসন।মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান।আহতের সংখ্যা শতাধিক।কয়েকশো ঘরবাড়ি ভেঙেচুরে নিশ্চিহ্ন হয়েছে।ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আছেন এখনও বহু মানুষ।মৃত ও জখমদের খুঁজতে ও উদ্ধারে চিনা সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় ড্রোন নামিয়েছে।মঙ্গলবার দুপুর পিপলস লিবারেশন আর্মির ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী অনুসন্ধানী ড্রোন পাঠিয়েছে।ভূমিকম্পের খবর পাওয়া মাত্রই বিমানবাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিপর্যয় মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই দুর্গতদের উদ্ধারে পরিবহণ, চিকিৎসা, হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনীকে তৈরি রাখা হয়েছে।সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে, এদিন ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ২৭ মিনিট নাগাদ ফের একটি আফটারশকে কেঁপে ওঠে শিজাং এলাকা।রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৫।চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সকলকে সর্বাত্মক শক্তিতে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নেপাল-তিব্বত সহ মোট ৫টি দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।বিহারের মধুবনী জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ভারত, নেপাল, বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে চিন, ভুটানেও।চিনে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৬.৮।শিলিগুড়ি শহর ও লাগোয়া এলাকায় ঘর বাড়ি কেঁপে ওঠে।আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।প্রাথমিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।শিলিগুড়িতে রিখটারস্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.২।পার্শ্ববর্তী রাজ্য সিকিমেও আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
