দিন দর্পণ– কলকাতাঃ প্রাথমিকে সেমেস্টার সিস্টেম চলবে না।স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।এনিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘরের বৈঠকে ব্যপক ক্ষোভের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।তিনি নানাভাবে বিষয়টিকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও মূখ্যমন্ত্রী রীতিমতো ধমকের সুরে জানান, প্রাথমিক স্তরের সেমেস্টার সিস্টেম চালু করা যাবে না।গত ২৭ ডিসেম্বর সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছিল ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক স্তরে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হবে।বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন প্রাথমিকের বাচ্চাদের ওপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।সেমিস্টার পদ্ধতি চালুর যে ঘোষণা করা হয়েছে তা শীঘ্রই বাতিল করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের স্কুলগুলির উন্নয়নের কাজ কতদূর এগোল তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।শিক্ষা দফতরের পালা আসতেই প্রাথমিকে পরীক্ষা ব্যবস্থা বদলের ঘোষণার বিষয়টি শুনে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।এরপরই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি কাগজে দেখালাম।জানতাম না। মুখ্যসচিবও জানতেন না।প্রাথমিক স্তরে সেমেস্টার।ব্রাত্য তুমি শিক্ষামন্ত্রী।কিন্তু মনে রাখবে, নয়া নীতির ক্ষেত্রে আগে জানাতে হবে।এরপর ব্রাত্য জানান দিদি আমিও কাগজ দেখে পরশু পর্ষদ সভাপতির সঙ্গে কথা বলি।মুখ্যসচিবকে জানিয়েছি।আপনি বললে তবেই হবে।
ক্ষুব্ধ মমতা আরও বলেন কাগজে বেরল কীভাবে আমি কোনও কথা শুনতে চাই না।যা মেসেজ যাওয়ার চলে গিয়েছে।ওটা হবে না।চারজন অ্যাডভাইজার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলে দিল, আর হয়ে গেল, বাচ্চাগুলোর আমি চাই ভার কমাতে ব্যাগ কমাতে।এমনিতেই এখন পড়াশোনার ভার অনেক বেশি।ওইটুকু বাচ্চারা কথা বলতে পারে না।তাদের পড়ানো হয়, শেখানো হয়।ওয়ান, টুয়ের বাচ্চারা সেমেস্টার দেবে কলেজে যেটা চলে সেটা স্কুলে চলে না।স্কুলে যা প্রথা চলছে তাই হবে।কলেজ ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে তারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।এটা অলরেডি চালু হয়ে গিয়েছে।স্কুলে সেমেস্টার চলবে না।মমতার সাফ নির্দেশ শিক্ষাক্ষেত্রে আগে কোনও নীতি নেওয়া হলে আলোচনা করে তবে সাংবাদিক বৈঠক হবে।
সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান গৌতম পাল সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় চালু হচ্ছে সেমেস্টার পদ্ধতি।সেক্ষেত্রে বলা হয়েছিল, এবার থেকে একই শ্রেণিতে দুবার করে হবে পরীক্ষা।সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রতিযোগিতার জন্য ছোট থেকেই গড়ে তোলা হবে পড়ুয়াদের।তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই তাই চালু হচ্ছে নতুন পদ্ধতি।
জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত একটি সেমেস্টার এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমেস্টার হবে।২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মূল্যায়ন হবে বলে জানানো হয়েছিল।প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে এই পদ্ধতি চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন গৌতম।পর্ষদের তরফে এও জানানো হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের শিক্ষাবর্ষে পুরনো পাঠ্যক্রমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে বদল আসবে।সেই সময় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছিল, ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন আইন অনুসারে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নো ডিটেনশন পলিসি আছে।আর প্রাক প্রাথমিকে ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক আনা হবে না।প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে গোটা শিক্ষাবর্ষে ৮০০ ঘণ্টা পার করতে হবে।তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে গোটা শিক্ষাবর্ষে ১০০০ ঘণ্টা পার করতে হবে।তবে এক্ষেত্রে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে সিঙ্গল সেমেস্টারে ৩৭৬ ঘণ্টা করে ও তৃতীয় থেকে পঞ্চম সিঙ্গল সেমেস্টারে ৪৬০ ঘণ্টা কাটাতে হবে।লিখিত পরীক্ষা ৬০ ঘণ্টার হবে।মার্কসের সঙ্গে ক্রেডিট পয়েন্ট দেওয়া হবে।
