দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতায় বহু পর্যটন স্থান থাকলেও সেই একই চিড়িয়াখানা প্রতি বছর ডিসেম্বরে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়।আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষের মনে আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রতি আবেগ কখনও কমবে না।ঠিক কী কারণে চিড়িয়াখানায় বছরের পর বছর মানুষ ভিড় করছে?সবার আগে মনে করা হয়, চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্য অনেকটাই কম।যা মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে।এছাড়াও বাচ্চাদের জন্য পশু, পাখি খুবই আকর্ষণীয়।অনেক বাচ্চারা ছবিতে দেখা প্রাণীটিকে চোখের সামনে থেকে দেখে তখন তারা খুবই আনন্দে মেতে ওঠে।তারই সাথে পিকনিকের জন্য খোলা জায়গা ও গাছপালা খুবই আরামদায়ক এক পরিবেশ।এছাড়াও হাওড়া, শিয়ালদহ থেকে খুবই কম সময়ের মধ্যে এই স্থানে পৌঁছানো যায়।শীতের মরশুমে একদিনের জন্য পরিবারকে নিয়ে কলকাতায় ঘোরার অন্যতম স্থান এই আলিপুর চিড়িয়াখানা।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি কলকাতায় চিড়িয়াখানা স্থাপনের ভাবনা শুরু হয়।এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে।রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড অর্থাৎ প্রিন্স অব ওয়েলস ১৮৭৬ সালে ভ্রমণের সময় এটি উদ্বোধন করেন।১৮৭৬ সালে ৬ই মে আম জনতার জন্য খুলে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানার দরজা।জানা যায়, ঔপনিবেশিক বাংলার একমাত্র চিড়িয়াখানা ছিল ব্যারাকপুরে।তা ছিল লন্ডন পশুপালার থেকেও প্রাচীন।এবং সেখান থেকেই স্থানান্তরিত করা হয় বেশ কিছু পশু।ভারতীয়দের মধ্যে রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক চিড়িয়াখানার পশুদের প্রথম আবাস গৃহ মল্লিক হাউস তৈরিতে দান করেন।যা দিয়েই একে একে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই অভিনব আলিপুর চিড়িয়াখানা।
চিড়িয়াখানা কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি।২০১৬-এ পরিসংখ্যান প্রায় ৩ মিলিয়নের বার্ষিক পরিদর্শন দেখায়।কলকাতার অন্যান্য পর্যটক আকর্ষণের চেয়ে বেশি।২০২৩ ও ২০২৪ সালের বড়দিন ও নববর্ষের দিনে ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান ছাপিয়ে তা একলক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, এশিয়াটিক সিংহ, জাগুয়ার, জলহস্তী, বৃহত্তর এক শিংওয়ালা গন্ডার, জিরাফ,জেব্রা এবং ভারতীয় হাতি আফ্রিকান সিংহ, প্যানথেরা হাইব্রিড এবং দৈত্য ইল্যান্ডের মতো অন্যান্য মেগাফানা, গ্রিণ অ্যানাকোন্ডা, সিল উপস্থিত ছিল।তবে আকর্ষণের তালিকা থেকে বাদ নেই পাখিরালয়ও।এতদিন ধরে পাখির খাঁচার বাইরে ভিড় জমিয়ে এসেছেন সকল দর্শনার্থীরা।তবে এবার সরাসরি প্রবেশ করা যাবে খাঁচার ভিতরেই।দর্শনার্থীরা থাকবে খাঁচায় আর পাখিরা থাকবে বাইরে।সেখানে দেখা মিলবে একাধিক প্রজাতির পাখির।বড় তোতাপাখি, লরি এবং লরিকিট সহ অন্যান্য পাখি যেমন হর্নবিল, রঙিন পাখি, ময়ূর।
