বড়দিনের আগেই দার্জিলিং-এ তুষারপাত


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, শনিবার উত্তর সিকিম এবং দার্জিলিং পাহাড়ের উঁচু এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে গিয়েছে।উত্তর সিকিম এবং দার্জিলিং পাহাড়ের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা প্রবল।এরপর তাপমাত্রা নামলেও বড়দিনে বরফ সাদা পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ নাও মিলতে পারে।ছাঙ্গু,সহ নাথুলা সীমান্তে শুরু হয়েছে তুষারপাত।কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সিকিমের আকাশ মেঘলা হতে শুরু করেছে।উঁচু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাত হচ্ছে।

নিম্নচাপের জেরে তাপমাত্রার বদল ঘটছে।বড়দিনে ঠান্ডাভাব কম থাকবে বলেই আভাস মিলেছে।তবে বছরের শেষটা পর্যটকদের জন্য ভাল যাবে বলে বড় ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দফতর।কারণ দার্জিলিং, সিকিমে তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।আগামী বুধবার বড়দিন।তার আগে সিকিমে শুরু হয়েছে তুষারপাত।তবে তা বড়দিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে না।তাই তার আগে সিকিমের ঠান্ডায় সাদা পাহাড় উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন বহু পর্যটক।পথঘাট তুষারকুচিতে ঢেকে গিয়েছে।আর পশম শরীর, গাছগাছালি সবেতেই বরফ দেখতে পাচ্ছেন পর্যটকরা।আর তাতেই নেমেছে পর্যটকের ঢল।শনিবারই আবার দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা প্রবল।মৌসম ভবন জানিয়েছে, সিকিম সহ উত্তরবঙ্গের উঁচু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাত হবে আগামী কদিন।তবে মাঝে তা কমেও যাবে।

বড়দিনের সময়টা তাপমাত্রার অদল-বদল ঘটলেও বছরের শেষটা ভাল যাবে পর্যটকদের জন্য।কারণ ২৭ তারিখের পর থেকে ফের বৃষ্টির সঙ্গে ভারী তুষারপাত হতে পারে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ের উঁচু এলাকায়।পশ্চিম হিমালয়ের কাছে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।তার জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।সুতরাং বলাই যায়, ডিসেম্বরের শেষে যারা পাহাড়ে ঘুরতে যাবেন তারা অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে চলেছেন।দার্জিলিং ছাড়া সিকিমের লাচুং, লাচেন, গুরুদোংমার, ছাঙ্গু লেক অঞ্চল ইতিমধ্যে বরফে ঢেকেছে।বছরের শেষে আরও তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে।বড়দিনে যে পর্যটকরা পাহাড়ে কয়েকদিনের জন্য যাবে, যারা নতুন বছরের শুরুতেও সেখানে থাকবেন, তাঁরা অপরূপ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য চাক্ষুষ করতে চলেছেন।

আলিপুর জানিয়েছে, কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর,পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে।দৃশ্যমানতা কোথাও ২০০ মিটার আবার কোথাও ৫০ মিটারের নিচে চলে যেতে পারে।দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অবস্থান করছে।এই নিম্নচাপটি তামিলনাড়ু উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।এর জেরেই বাংলায় অকাল বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তবে একটাই স্বস্তির খবর, বড়দিনে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আলিপুর।জাঁকিয়ে শীত না পড়লেও তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *