বাঘের ভয়ে কাঁটা শালবন


দিন দর্পণ,ঝাড়গ্রামঃ  সুন্দরবন ও কুলতলীর বাসিন্দাদের পর এবার আতঙ্কে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দারা।রাতারাতি ঘুম কেড়েছে ঝাড়খন্ড পেড়িয়ে ঝাড়গ্রামে ঢুকে পড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।তবে ইতিমধ্যেই জিনাত নামক বাঘিনীর অবস্থান ঠিক কোথায়, তা জানা সম্ভব হচ্ছে না।রাজ্য বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন কাঁকরাঝোড়, আমলাশোল, দলদলির এলাকার আশেপাশে।এছাড়াও রয়েছেন সুন্দরবন বিশেষজ্ঞরাও।ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে বন দফতর আধিকারিকেরা।জঙ্গল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জঙ্গলে একা না যাওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে।এমনকি বাঘিনীর ভয়ে জঙ্গলে জীবিকা অর্জনের কাজে যেতে পারছেন না অরণ্যবাসী।আর তাতেই জঙ্গলে না গেলে আয় কীভাবে হবে, তা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জিনাতের অবস্থান জানতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরার।এই বাঘিনির গলায় বাঁধা রয়েছে বন দফতরের অনুমোদিত ট্র্যাকার।যার সাহায্যে প্রতি নিয়ত তাঁর অবস্থানের সন্ধান পাওয়া গেলেও তা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না।টোপ হিসেবে জঙ্গলের মুখেই রাখা হয়েছে দুটি গরু।সেখানে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ১০০ জন বনকর্মী।এছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন রাজ্য স্তরের উচ্চপর্যায়ের বন আধিকারিকরাও।ঝাড়গ্রামের যুজারধারা, ময়ূরঝোড়া, জাবলা, ওরালি, চিরিমারা, কাঁকড়াঝোড়, মনিরাদি, তেলিঘানা, আমলাশোল, দলদলি, এই ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের সর্বক্ষণ সতর্ক করা হচ্ছে।ঝাড়গ্রামের ডিএফও নিজে সতর্ক করছেন।

জানা গিয়েছে, তিন বছরের এই জিনাতকে গত ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা হয়েছিল।গত ২৪ নভেম্বর রেডিয়ো কলার পরিয়ে তাকে সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল।তার পরেই ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ঘুরে এবার বাংলায় ঢুকে পড়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার জিনাত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *