দিন দর্পণ, বর্ধমানঃ আবারও মিলল ভুয়ো ডাক্তার এর হদিশ।কয়েকদিন আগে বর্ধমানের বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বেনিয়মের অভিযোগ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস।এমনকি, সিএমওএইচকে ঘেরাওয়ের হুমকিও দেন।এরপরই ঘটনাচক্রে দুই ভুয়ো ডাক্তারকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।বর্ধমান জেলার লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকায় একটি নীল রঙের বাড়ির নীচের তলায় ডাক্তারখানা।তাতে রোগী দেখেন একে প্রসাদ এবং ডিকে দীপক।সম্পর্কে তাঁরা বাবা ও ছেলে।একে প্রসাদ সম্পর্কে বাবা হন।তাঁর নামের পাশে লেখা এমবিবিএস।এবং ডিকে প্রসাদ সম্পর্কে ছেলে, তাঁর নামের পাশে লেখা জেনারেল ফিজিশিয়ান।বাবা ও ছেলের পশার বেশ ভালোই জমে উঠেছিল।পুলিশ যখন তাঁদের আটক করতে যান তখনও সেখানে বেশ কয়েকজন রোগী ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।এমনকী, ওই ডাক্তারখানায় ছোট খাটো অস্ত্রপচারও করা হয়ে থাকে।উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকা সত্বেও তাদের ডাক্তারখানা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছিল।এছাড়াও তাঁদের বাড়ির উল্টোদিকেই একে প্রসাদের ছোট ছেলের ঔষুধের দোকান রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার লোকজন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন দুই ডাক্তার সম্পর্কে।তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।শুক্রবার পুলিশ খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বা ক্লিনিকের নথি, অভিযুক্তদের কাছে সে সব কিছুই নেই।তারপরই বাবা-ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, লক্ষীপুর এলাকার যে বাড়িতে ক্লিনিক সেই বাড়িটি তাদের।অভিযুক্ত একে প্রসাদ এর পুরো নাম অশোককুমার প্রসাদ।তিনি পুলিশের কাছে যানান, ছোট থেকে বিহারে পড়াশোনা করেছেন।সেখানকার কলেজে পড়াশোনা শেষ করে সিএমএস, সিডিপি(কমিউনিটি মেডিক্যাল সার্ভিস)সংক্রান্ত ডিগ্রি অর্জন করেছেন।কিন্তু, ওই ডিগ্রি নিয়ে চিকিৎসা করা যায় কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তিনি একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সহকারী হিসাবে কাজ করতেন।ছেলে বাড়িতে ক্লিনিক চালু করেন।তারপর থেকে ছেলের ক্লিনিকেই প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি।কিন্তু নামের পাশে কেন ভুয়ো ডিগ্রি লেখা কেন সেই নিয়ে কোনো কথাই বলেননি একে প্রসাদ।এর আগেও ২০১৭ সালে অভিযুক্তদের একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন।কিন্তু, তারপরও ছাড়া পেয়ে একই কাজ করেন তাঁরা।শনিবার বাবা ও ছেলেকে আদালতে পেশ করা হয়।
